১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ মঙ্গলবার
কামারখালী

অভিশপ্ত হওয়ার পথে কামারখালী বাজারের পরিবেশ!

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
কামারখালী বাংলাদেশের মধ্যে একটি ইউনিয়ন যা ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার অন্যতম প্রধান বাজার হচ্ছে কামারখালী বাজার। প্রতি বছরই ৩২-৩৩ লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইজারা দেওয়া উক্ত বাজার। সপ্তাহের শুক্রবার ও সোমবার ২ দিন কামারখালী বাজারে হাঁট বসে। প্রতি হাঁটে মধুখালী উপজেলার ৫-৬টি ইউনিয়নের থেকে হাজার হাজার মানুষ বেচা-কেনা করতে আসে। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায় করে থাকে হাট ইজারা কমিটি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দিন যত যাচ্ছে কামারখালী বাজার তত নোংরা হচ্ছে। বর্তমানে বলা যায়, অভিশপ্ত কামারখালী বাজার।

সরজমিনে গিয়ে দেখতে পাই, কামারখালী বাজারের সব অলি-গলিতে নোংরা জিনিসপত্র ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে এক শ্রেনির ব্যবসায়ীরা। প্রায় দোকানের সামনে আলাদা দোকান বসিয়ে ইনকামের পথ খুঁজছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। বিশেষকরে দোকানের সামনে যে নালাগুলো রয়েছে, তার উপর তক্তা বসিয়ে নালা দখল করে প্রায় সময় বেচা-কেনা করছে হকারের মতো দোকানদাররা। বর্তমানে পানি চলাচলের বেশির ভাগ নালা ময়লা ফেলে ভরাট করে দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। মাংসের দোকানে গিয়ে দেখতে পাই, প্রচুর নোংরা পরিবেশে তারা মাংস বিক্রি করছে এবং বাজারের সাইটঘরের ভিতরে গরু জবাই করার পর মাংসের উচ্ছিষ্ট পদার্থ নালায় ফেলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। দোকানের সামনে হাঁটার রাস্তা দখল করে নিচ্ছে অনেক দোকানদার। কামারখালী বাজারের কিছু দোকানের সামনের নালায় প্রচুর ময়লা ফেলে বাজারের পরিবেশ নষ্ট করছে ভাসমান হকারসহ মুরগীর ফার্মের দোকানদাররা। এমনকি তাদের ব্যবহৃত সমস্ত দূষিত পানি দোকানের সামনে ফেলছে প্রতিদিন এবং খোলা জায়গায় হকাররা প্রশ্রাব করে বাজার কে ডাস্টবিনে পরিণত করছে। তাছাড়া বাজারে তেমন কোন ল্যাট্রিন নাই যা আছে পরিত্যক্ত ও নোংরা। আর চাল ও তরকারী এবং মাছ ও গোশত বাজারের অবস্থা খুবই ঝুকিপূর্ণ যা মেরামত অতি জরুরী। বাজার বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আঃ ছালাম মন্ডল সাথে মোবাইলে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বাজারের পরিবেশ নোংরা হচ্ছে ঠিক, কিন্তু বাজারের নোংরা পরিবেশ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন,বর্তমানে হকাররা নালা দখল করে পণ্যের পসরা সাজিয়ে রাখায় নালা পরিষ্কার করতে না পারায় পুরো গলি গন্ধে পরিবেশ ভারী হয়ে যাচ্ছে। যার দরুন মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বাজারের পূর্ব-পশ্চিম গলিতে গিয়ে দেখা গেল নোংরা পরিবেশের মহোৎসব। অর্থাৎ মাছ বাজার ও তরকারী এবং গোশত বাজার বর্তমানে একটি বিশাল ডাস্টবিন। কামারখালী বাজারের দক্ষিণ লেইনের পানি চলাচলের একমাত্র নালা দীর্ঘদিন ধরে ড্রেসিং না করায় ভরাট হয়ে পানি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ ব্যাপারে কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রাকিব হোসেন চৌধুরী’র কাছে জানতে তিনি এ বিষয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। কিছু কিছু দোকানের সামনে গিয়ে দেখি, হকাররা নালার স্লেপ ভেংগে নালা দখল করে পণ্য সাজায় রাখছে। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা বাজার হাট মালিক কে ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছি। বাজারের এক দোকানদার বলেন, আজকের এ অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে কামারখালী বাজারের পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। অনেক দোকানদার বলেছেন, বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে হাঁটাচলা করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেদিকে যায়, সেই দিকে দুর্গন্ধ।

তারা বলেন, দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা যদি রাস্তায় এভাবে রাখে মানুষ চলাচলে সমস্যা সহ স্বাস্থ্য কি হুমকির সম্মুখীন নয়? । কামারখালী বাজারের দক্ষিণ লেইনে নালার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে ক্রেতা বিক্রেতা সবাই। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাধারন ক্রেতা ও বিক্রেতা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দাবী জানান।