১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ মঙ্গলবার
বাগাট

ইট ভাটার কারণে দুর্ভোগে হাজার হাজার মানুষ

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের মিটাইন গ্রামে এম.এম কেবি ব্রিকস দেখে বুঝার উপায় এটি পাকা রাস্তা। জায়গা বিশেষে দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি মাটির আস্তরণ পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পাকা রাস্তা হয়ে যায় কর্দমাক্ত নয়তো ধূলায় ঢাকা, ফলে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। স্কুলের শিশুরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে স্কুল থেকে। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের ইউনিয়নের মিটাইন গ্রামে মধ্যে দিয়ে চলে গেছে কয়েক কিলোমিটার সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মিটাইন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিটাইন উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন মাদ্রাসা এবং কলেজে শিক্ষক সহ স্কুল ও কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত। সেইসঙ্গে মিটাইন, গোমারা, চানপুর গ্রাম সহ আশেপাশে গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচলে একমাত্র রাস্তা এটি। কিন্তু স্কুল মাদরাসার পাশ ঘিরে পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে জনবসতির পাশে গড়ে উঠা ‘এম.এম.কেবি ব্রিকস’নামের একটি ইটভাটার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই অঞ্চলের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষ। দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী এই সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর, আবেদন করেও কোনও সমাধান না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ট্রাক ও ট্রলি গাড়িতে ভরে মাটি যাচ্ছে উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের মিটাইন গ্রামে অবস্থিত এম.এম.কে বি ব্রিকস নামের ইট ভাটায়। সারা বছর পাকা রাস্তার ওপর দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি পরিবহনের কারণে পাকা রাস্তার ওপর দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি পর্যন্ত মাটির স্তূপ পড়েছে। জমে থাকা এই মাটির কারণে বৃষ্টির দিনে পাকা রাস্তা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। এই রাস্তা দিয়ে এলাকাবাসী চলাচল করতে চরম সমস্যা হয়। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টি হলে কাদা আর বৃষ্টি না থাকলে ধুলাবালি সেইসঙ্গে ইট ভাটায় প্রতিদিন মাটি বহনকারী ট্রাকের শব্দে তারা পড়েছেন মহা বিপাকে। অভিযোগ রয়েছে ফসলের উর্বর জমির মাটি নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। মিটাইন ও গোমারা এবং পাইকপাড়া ও স্বরুপপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন বাড়ি থেকে কর্মক্ষেত্রে যাবার পথে ধুলাবালি আর কাদার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। বড়রা কোনোভাবে চলতে পারলেও শিশুরা স্কুলে যেতে চায় না। আশেপাশের হাজার হাজার মানুষের এই দুর্ভোগ নিয়ে উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত কথা বললেও কোনও লাভ হচ্ছে না। প্রশাসন মৌখিক আশ্বাস দিলেও আমাদের মুক্তি মিলছে না এই দুর্ভোগ থেকে। গ্রামের ও আশেপাশের স্থানীয় যুবকরা জানান, বৃস্টির দিনে কাদা মারিয়ে চলাচলের কারণে ৩-৪টি গ্রামের স্কুলমুখী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারী মহা বিপাকে। মাদরাসা ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা চরম বিরক্ত।

মাদরাসা ও স্কুলে হেঁটে যাওয়ার সময় কাদার কারণে যেতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ইটভাটার ট্রাক দ্রæতগতিতে ছুটে যাওয়ার সময় কাদাযুক্ত পানি কাপড় নষ্ট করে ফেলে। আমরা বড়রা সহ ছোট ছোট বাচ্চারা রাস্তা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জমিনে নেমে ওই স্থান অতিক্রম করতে হয়। ইটভাটাটি করা হয়েছে আইন না মেনে জনবসতিতে সেইসঙ্গে ফসলের মাঠ এবং মাঠের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। মিটাইন স্কুল ও মাদ্রাসার এবং উপজেলার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিদিন মাদরাসায় হেঁটে যাওয়ার সময় এইসব ট্রাক দ্রæত গতিতে যায়। তখন তারা রাস্তা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জমিনে নেমে পড়েন। এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তারা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য কারণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে এই সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুর উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ারকে জানালে তিনি বলেন আমরা সামনে মোবাইল কোট করবো।