১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ সোমবার
কামারখালী

ইলিশ বিক্রির নিষেধাজ্ঞার কারনে ইলিশের চাপ অন্য মাছে, দাম বাড়তি

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
৭অক্টোম্বর তারিখ শুক্রবার থেকে ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এ কারণে বাজারে অন্যান্য মাছের চাহিদা বেড়েছে। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে ইলিশ ধরা ও বিক্রিতে। গত শুক্রবার এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২২-এর আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এতে বাজার থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে ইলিশ মাছ। ইলিশ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে বেড়েছে অন্য মাছের চাহিদা। তাতে বেড়ে গেছে দামও। মাছ ভেদে দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা। মধুখাালী উপজেলার কামারখালী মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ মাছ বাজারে না থাকায় ক্রেতারা অন্য মাছ কিনছেন। বিশেষ করে রুই, কাতলার মতো কার্পজাতীয় মাছের চাহিদা বেশি। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এসব মাছের দামও বেড়েছে। এ দুই বাজারে শুক্রবার ছোট ও মাঝারি আকারের রুই প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর বড় আকারের রুইয়ের দাম ছিল প্রতি কেজি ৪০০ টাকার মধ্যে। আর জীবন্ত রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে। বিক্রেতা ও ক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে রুই মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া মাঝারি আকারের কাতলা মাছ বাজারে বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে।

বাজারে এখন সবচেয়ে কম দামি মাছের মধ্যে রয়েছে পাঙাশ, তেলাপিয়া। এসব মাছের দামও কেজি প্রতি ১০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। অবশ্য মৌসুমি ইলিশ ব্যবসায়ীরা বাজারে না থাকায় স্থায়ী মাছ বিক্রেতারা দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কামারখালী বাজার মাছ ব্যবসায়ী নিরাঞ্জন বিশ^াস কালু বলেন, ‘ইলিশ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই অন্য মাছের বিক্রি কমে যায়। এখন ইলিশ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য মাছ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এতে অনেক পদের মাছ বিক্রি করতে পারছি। ব্যবসা ভালো হচ্ছে। গত সপ্তাহেও প্রতিদিন দেশি মাছ দুই মণের বেশি বিক্রি করতে পারিনি। এখন তিন থেকে চার মণ মাছ বিক্রি করতে পারব।’সস্তা মাছের মধ্যে মাঝারি আকারের পাঙ্গাস মাছ কামারখালী বাজারে ২০০ টাকার বেশি কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ছোট পাঙাশ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৯০ টাকায়। চাষের মাঝারি ও বড় আকারের তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। এই দুই পদের মাছ গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে ক্রেতাদের। চাষের কই মাছ বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে।

এ ছাড়া মধুখালী বাজারে মাঝারি আকারের শিং মাছ বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজিতে। মানভেদে এই দুই প্রকারের মাছের দাম কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। আকারভেদে পাবদা মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইলিশ মাছ ব্যবসায়ীরা বলেন আমাদের ইলিশ মাছ আড়তে আমদানী -রপ্তানী ২২(বাইশ দিন) বন্দ। আমরা এই বাইশ দিন আমরা কি খেয়ে বাচঁবো। আমাদের সরকারী সাহায্যে একান্ত প্রয়োজন। তাছাড়া বাজারে বিভিন্ন জাতের মাছ বিভিন্ন নামে আমদানী হয়েছে । পাশাপাশি কাচা -বাচরের দামও বেশী । তাই বাজারের এই উর্দ্ধগতি দামের জন্য বাজার মনিটরিং করার জন্য ক্রেতারা প্রশাসনের সু-দৃস্টি কামনা করেন।