১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শনিবার
কামারখালী

কামারখালী বাজারে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে মজুদ তেল

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ঈদের আগে থেকে দেশের বাজারগুলোতে সয়াবিন তেলের চরম সংকট। ঈদের পরও একই অবস্থা। কোথাও সয়াবিন তেল নেই। তেলের সন্ধানে বিভিন্ন দোকান ঘুরে হয়রান ভোক্তারা। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরদিন লিটার প্রতি এক লাফে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর মজুদ করা কিছু বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে আসে এবং নতুন দামে বিক্রি করে দোকানদাররা। শুক্রবার ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজার ঘুরে দেখা দেখা যায়, সয়াবিন তেলের বোতলে মূল্য লেখা ১৬০ টাকা,(রুপচাদা) বিক্রেতারা নিচ্ছেন ২০০ টাকা। এর প্রমাণও পাওয়া যায় একজন ক্রেতা কামারখালী বাজার বাসিন্দা হিরোক মিয়ার মাধ্যমে। এ সময় আগের কেনা বোতল জাত সয়াবিন তেল যেখানে মূল্য লেখা আছে ১৬০ টাকা, কিন্তু বর্তমান দামে ২০০ টাকায় বিক্রি করছে কামারখালী চাল বাজারের সামনে গৌতম স্টোরে। বাজার ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মজুদ করা তেল আস্তে আস্তে লুকানো গুদাম থেকে বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন দোকানে । যেগুলো আগের দামে কেনা অথচ বিক্রি করা হচ্ছে নতুন দামে। ঈদের তিন-চার দিন আগে বাজার থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে গত ৫ মে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর মধুখালী উপজেলা বিভিন্ন বাজার ও অলি গলির কিছু দোকানে বোতল জাত সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু হয়। এসব তেল মূল্য বৃদ্ধির আগে কিনে রাখা। তেলের বোতলের মোড়কে উল্লেখ করা দরও আগের। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে নতুন দামে, যা আগের চেয়ে প্রতি লিটারে ৩৮ টাকা থেকে ৪০টাকা বেশি।

এরপরও কোথাও কোথাও ‘খুচরা ২ টাকা না থাকার অজুহাতে’ সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে অর্থাৎ ২০০ টাকা লিটার বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্রেতাদের ধারনা কামার খালী বাজার ব্যবসায়ীদের প্রতিটি দোকনে আগের দামের বোতল জাত তেল পর্যাপ্ত আছে । তাদের আরও ধারনা আগের দামের বোতল জাত তেল বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের বাজার বৃদ্ধি হওয়ায় বোতল জাত তেল খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। বাকি দোকানের সব তেল আগের দামের, কিন্তু বিক্রি করছেন নতুন দামে। যদিও প্রায় সব দোকানেই ১ লিটার তেল ১৯৮ টাকার বদলে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮০ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে ২০০থেকে ২১০ টাকায় আর পাম তেল ১৮৫টাকা থেকে -১৯০টাকা বিক্রি হচ্ছে। এমন অভিযোগ একজন ক্রেতার । তবে ক্রেতা হিরোক মিয়াকে নিয়ে গৌতম এর দোকানে যেয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে কেন বেশি টাকা রাখা হচ্ছে, জানতে চাইলে গৌতম স্টোরের গৌতম কিছুই বলেন নি। তবে আগে ২০০ টাকা রেখে পরে ৪০ টাকা ফেরত দিয়েছে। তাদের ধারনা কামারখালী বাজারে প্রতিটি ঘরে সব ধরনের তেল পর্যাপ্ত মজুদ আছে । এর সাথে বাজারে আমদানী কৃত মাছ, মাংস, শাক-সবজি ফলমূলের দাম বৃদ্ধি করেছে বিক্রেতারা। বিষয়টি বাজার মনিটরিং করার জন্য ক্রেতারা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকারের টিমের প্রতি দাবী জানান।