১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শনিবার
কামারখালী

কামারখালী বাজারে পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ক্রেতারা

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজারে ডাক্তারী পরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়াই যত্রতত্র গবাদিপশু জবাই করা হচ্ছে। কামারখালী ইউনিয়নের কামারখালী হাট-বাজারে গবাদি পশুর গোশত (মাংস) বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পশু জবাই করে যাচ্ছেন। এতে রুগ্ন ও বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত গবাদিপশু গরু, ছাগল ও গোপনে জবাই করে মাংস বিক্রি করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন ক্রেতারা। জানা যায়, কামারখালী বাজারে ও হাটে প্রতিদিন গরু, ছাগল জবাই হয়না। তবে কামারখালী বাজারে ভোর হওয়ার আগেই লোকচক্ষুর আড়ালে রোগাক্রান্ত গরু, ছাগল জবাই করে সে সব মাংস বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া বর্তমানে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস পাইকারি ৬৫০ টাকা ও খুচরা ৭০০ টাকা টাকা পর্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে। তবে জবাই করা পশুর শরীরে কোন রোগ বালাই রয়েছে কিনা এমন কোন ধারনাও রাখেন না ক্রেতা বিক্রেতারা। একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা, তেমনি জনসচেনতার অভাবে সুযোগ নিচ্ছে মাংস বিক্রেতারা । এতে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন কামারখালী বাজারে প্রতিদিন গরু জবাই হয়না। বিভিন্ন সময়ে হাটে ও বাজারে হটাৎ গবাদিপশু জবাই করে মাংস বিক্রয় করা হয়। জবাই করার আগে গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা দায়িত্বে একজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। ফলে যে যার ইচ্ছামতো লোকচক্ষুর আড়ালে পরীক্ষাও ছাড়পত্র ছাড়াই গবাদি পশু জবাই করে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কামারখালী বাজার বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আঃ সালাম মন্ডর বলেন, পশু অসুস্থ নাকি সুস্থ ছিল আমরা তা জানতে পারি না। যদিও নিয়ম অনুযায়ী পশু জবাই করার আগে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছাড়পত্র ও পশুর শরীরে সিল থাকার কথা। কিন্তু এর একটিও নেই গোশত বিক্রিতার কাছে। এই দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি না থাকায় লোকজন কি খাচ্ছে তা বুঝার উপায় নেই। এদিকে গবাদিপশুর ছাড়পত্র ও পশুর গায়ে সিল দেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গোশত বিক্রেতা জানান, বেশির ভাগ গুরু ভাল থাকাই ছাড়পত্র নেওয়া হয় না। তবে গত এক মাসের মধ্যে কোন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছ থেকে কোন গবাদিপশুকে পরীক্ষা করিয়ে ছাড়পত্র এনেছি কিনা এমন প্রশ্নের সদুত্তর তারা দিতে পারেননি । এ বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা করে বিক্রেতাদের গবাদি পশু জবাই করার জন্য ক্রেতারা মধুখালী উপজেলা প্রশাসন ও মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রতি জোরালো আহবান জানান।