১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ মঙ্গলবার
কামারখালী

খড়ের ঘরে নাসিমের জীবন

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
একটা সময় গ্রামের পর গ্রাম খড়ের ঘর দেখা যেত। মাটির দেয়াল, ওপরে খড়ের চাল। এখন তা হারিয়ে গেছে। এ যুগের প্রজন্মরা মাটির বা খড়ের ঘরের গল্প শুনলে বিশ্বাসই করবে না। তবে এখনো বিশ্বাস করার মতো মাটি আর খড়ের ঘর চোখে পড়ে। কোমরপুর গ্রামে হোমিও আলিম ডাক্তারের ছেলে নাসিম খাঁন সেই খড়ের ঘরেই বসবাস করেন। পেশায় ভালো ও সুনাম যোগ্য চিকিৎসক। বাড়ী ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামে। ঝড়, বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি তীব্র গরম ও শীত দুটোই যেন তার জন্য কাল, তবে নাসিমের মতে দালান কোঠা আর অট্টালিকা হওয়ার স্বপ্ন হারিয়ে গেছে খড়ের ঘরের কাছে।

সরেজমিনে কোমরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নাসিমের ছোট্ট একটি কুঁড়ে ঘর। ঘরের দু’পাশে পাট কাটির বেড়া, পাট কাটি ও পলিথিন দিয়ে মোড়ানো উপরে খড়ের ঘরের চাল। চালের একাধিক জায়গা ছিদ্র। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার মতো নয়। কথা হয় নাসিমের সঙ্গে তিনি বলেন, আমার এক প্রতিবেশী ব্রেনস্টোক করার পর ঘরের দরজা বন্ধ মৃত অবস্থায় পড়ে থাকে আমি পাশের রুম বেয়ে মই দিয়ে সানসেট বেয়ে নেমে দরজা খুলে তাকে বের করে আনতে গেলে আমি নিজে মই থেকে পড়ে পা ভেঙ্গে আহত হয়। অনেক চিকিৎসার করানোর পরও স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে পারিনা স্থানীয় মেম্বর ও চেয়ারম্যানের দারস্থ হলে কোন উপকার পাইনি। বাড়িতে নাই পানি খাওয়ার মত কল, নাই ল্যাট্রিন । বর্তমান আগের মত মানুষে চিকিৎসা করতে পারি না বাজারে ভাড়া ঘরে ছোট ঘরে বসে চিকিৎসা করতে হয়। আমার জীবনের দুঃখ সরকারী সমস্ত সাহায্যে সহযোগীতা থেকে বঞ্চিত। তিনি আরও বলেন আমার কোন জমি নাই বাড়ী জমি ব্যতিত ।

এ ছাড়া আমার দুটি ছেলে বড় ছেলে ইসরাঈল খাঁন (১৫) ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেন মারুফুল (৮) দুই ছেলে লেখাপড়া করে । এর মধ্যে পাশাপাশি বড় ছেলে একজন ট্যালেন্ট ক্রিকেটার এবং পিকেসিএসবিডি একজন সদস্য। বর্তমান তার সখ লেখাপড়ার পাশাপাশি একজন খ্যাতি সমপন্ন ক্রিকেটার হওয়া। তাই আমার জীবনে যাতে সরকারী ভাবে একটি সরকারী ঘর পাই ও ছেলেটিকে সরকারী সাহায্যে সহযোগীতার মাধ্যমে সরকারী ভাবে ক্রিকেটারে স্থান পাই তার জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন।