১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ সোমবার
কামারখালী

গড়াই ও মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙ্গনে ও পানি বন্দীতে কামারখালী ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামের মানুষ দিশেহারা

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
প্রতি বছরের ন্যায় এবার ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে গড়াই ও মধুমতির নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র ভাঙ্গনে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙ্গনে সালামতপুর বর্তমান রঊফ নগর গ্রামের নদীর কুল দিয়ে মানুষের যাতায়াতের রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে। অনেক ঘর-বাড়ী নদী গর্ভে চলে গেছে । বর্তমান যাচ্ছে ও আরও বসতবাড়ী, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যাদুঘর চরম ঝুঁকিতে আছে। দুই-এক বছরের মধ্যে মানুষের বসতঘর ও যাদুঘর নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাবে। এর মধ্যে অনেকে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে সরিয়ে নিচ্ছে আবার অনেকের বসতঘর বানাবার জায়গা জমি নাই। চিন্তায় দিশেহারা হয়ে আছে। এ ব্যপারে নদীর ধারে বসবাসকারী মোঃ বাদশা , জাকির, কালাম সহ আরো অনেকে বলেন বিগত ১০বছরের চেয়ে এবার নদীর ভাঙ্গন বেশী। যে ভাবে নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়েছে তাতে মনে হয় গ্রামের অনেকের ঘরবাড়ী ও যাদঘর রক্ষা করা যাবে না। নদীতে চলে যাবে। তাই নদীর বাধ অতিব জরুরী।

এ ছাড়া রাজধরপুর, ফুলবাড়ী, গন্ধখালী, দয়ারামপুর, চরগয়েশপুর, চরপুখুরিয়া গ্রাম ভাঙ্গনে তীব্র আকার ধারন করছে। ফলে কামারখালী কলাবাগান, দয়ারামপুর, সালামতপুর, চরকসুন্দি, জারজন নগর, গয়েশপুর, বকশিপুর, আড়পাড়া, চর বহালবাড়িয়ার গ্রামের মানুষ ও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানি বন্দী হয়ে আছে। ফলে নদীর পানি তীব্র বৃদ্ধির কারনে কামারখালী ইউনিয়নে অনেক গ্রামের কয়েকশত পরিবারের রোপা ধান সহ অন্যান্য ফসলের চরম ক্ষতি হয়েছে। তাই এই সকল গ্রামের মানুষের সরকারী সাহায্যে জরুরী প্রয়োজন। এ ব্যপারে কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস (বাবু) বলেন আমার ইউনিয়ন নদী ভাঙ্গন ইউনিয়ন। এবার ইউনিয়নে নদীর ভাঙ্গন ও পানির বৃদ্ধি বিগত বছরের চেয়ে বেশী। আমি আমার ইউনিয়নের মানুষের সমস্যার কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোস্তফা মনোয়ার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ সোহরাব হোসেন সহ আরো কর্তৃপক্ষকে অবগত করিয়েছি।

আশা করা যায় অচিরেই আমার ইউনিয়নে পানি বন্দি ও ভাঙ্গন এবং ফসলের ক্ষতি পরিবারের জন্য সরকারী বরাদ্ধ আসবে তখন বিতরন করা হবে। তিনি আরও বলেন নদী বাধ না দিলে গ্রাম সহ যাদুঘর বিলীন হয়ে যাবে। তাই বীরশ্রেষ্ট মুন্সী আঃ রউফ এর ইউনিয়ন , বাড়ী, সড়ক, যাদুঘর এবং ইউনিয়নের অন্যান্য বসতিদের কথা চিন্তা করে সরকারের নদী বাধের ব্যবস্থা করা অতি জরুরী বলে মনে করেন। পাশাপাশি অচিরেই নদী বাধের জন্য ইউনিয়নের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যাান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস (বাবু) সরকারের নিকট জোর দাবী করেন।