৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শনিবার
কামারখালী

গড়াই ও মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আঃ রউফ বাড়ী,যাদুঘর সহ কয়েকটি গ্রাম বিলীনের পথে

কামারখালী প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম গড়াই ও মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণের তান্ডব শুরু হয়েছে। । কামারখালী ইউনিয়নের ১০ টি গ্রামের শত শত বাড়িঘর ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। জানা যায় ইতোমধ্যেই প্রায় ১০টি বাড়িঘর, ২০বিঘা ফসলি জমি ও অর্ধশত গাছপালা গড়াই ও মধুমতি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ ছাড়া অসংখ্য বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলিন হওয়ার পথে। গত কয়েক দিন ধরে গড়াই ও মধুমতি নদীর পানির টান শুরু হয়েছে। এর সাথে সাথে এ ভাঙ্গণের তান্ডবও শুরু হয়েছে। গ্রাম গুলি হলো- রাজধরপুর , ফুলবাড়ী, গন্ধখালী, দয়ারামপুর, নাওড়াপাড়া, সালামতপুর, আড়পাড়া, বকসিপুর, চরগয়েশপুর, চরপুখুরিয়া সহ আরো গ্রাম। এ বিষয়ে রাজধরপুর গ্রামের, গোলাম আলী, ফুলবাড়ী গ্রামের সাবেক ইউ.পি. মহিলা সদস্য মোছাঃ নুরুন নাহার বলেন দ্রæত সময়ের মধ্যে এ ভাঙ্গণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এ সব গ্রাম ও ঘরবাড়ি গড়াই ও মধুমতি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। মানুষজন সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। এ থেকে এলাকাবাসিকে বাচাতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রæত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে কামারখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ ফরিদ হোসেন বলেন , এলাকার সব বাড়িঘর ভেঙ্গে শেষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষজন ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙ্গণ রোধে ব্যবস্থা না নিলে এ সব গ্রাম ও গাছপালা শেষ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস (বাবু) বলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আশিকুর রহমান চৌধুরীকে অবগত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার বলা সত্ত্বেও তারা সময় মত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পানির টানে এ সব গ্রামে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বাড়িঘর রক্ষায় এলাকাবাসি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাই অবিলম্বে ভাঙ্গণরোধে

কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান তারা। এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, অচিরেই ভাঙ্গণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বছর রাজধরপুর ডাম্পিং, গন্ধখালী ডাম্পিং পেলেচিং এবং সালামতপুর গ্রামে বীরশ্রেষ্ট মুন্সী আঃ রউফ এর জন্মস্থান গ্রাম এবং যাদুঘর রক্ষাকল্পে ডাম্পিং আংশিক কাজ করে আপত ঠেকানো হয়েছে নদীর পানি শুকালে আগামীতে ডাম্পিং ও পেলেচিং এর কাজ করা হবে। এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, এ ভাঙ্গণ রোধে বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। প্রকল্পটি পাশ হলেই কাজ শুরু করা হবে।