১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ মঙ্গলবার
আড়পাড়া

নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করা হলো না বড় লোকের ঘরে গরীবের মেয়ে তৃপ্তির

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
সংসার করার প্রবল ইচ্ছে ছিল। স্বামী ও সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করতে হতো। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করা হয়ে উঠেনি। গরীব পিতার গরীব মেয়ে বলে সব ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে বাবার বাড়িতে। ইচ্ছে ছিল পড়াশুনা করে দেশের জন্য কিছু করার। কিন্তু অভাবের সংসার হওয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পর কলেজে পড়া অবস্থায় ভালো পরিবার দেখে বিয়ে দিলো সুখে থাকবে এই আশায় ২০১৮ সালে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের বালুচর গ্রামের আলতাফ শেখের মেয়ে তৃপ্তি খাতুনের পরিবারিকভাবে বিয়ে হয় রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার কুবদি গ্রামের প্রভাবশালী এবং সম্পদশালী শাহজাাহান শেখ ওরফে জলিল শেখের (বড়লোক বাপের) বড়লোক ছেলে বিদেশ প্রবাসী এনামূল শেখ এর সঙ্গে ।

কিন্তু ভালো থাকা হলো না তৃপ্তি বেগমের। কারন জানা যায় বিবাহের এক সপ্তাহ পর আলাদা করে ঘরবাড়ী তৈরী করে পৃথক করে দেয় শ^াশুরী, ভাসুর ও মামারা। পৃথক করে দেওয়ার পর জীবনে নেমে আসে স্বামী সহ পরিবারের অমানষিক নির্যাতন। বিয়ের পর পৃথক করে দেওয়ার পর থেকে শুরু হয় স্বামীসহ পরিবারের আরও লোকজনের নির্যাতন। এভাবেই কেটে গেছে প্রায় ৩বছর। আর এর মধ্যে জন্ম নিয়েছে এক মেয়ে। ছেলে সন্তান জন্ম না হওয়ার দরুন আমার জীবনে চলে আসে স্বামী সহ পারিবারিক ভাবে সকলের নির্যাতন। তৃপ্তি বেগম জানান, বিয়ের পর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের পরিমাণটা এমন ছিল যে এক সময় অজ্ঞান হয়ে যেতাম। তখন আমার মনে হয় আমার স্বামী নেশা করে প্রতি রাতে বাড়ি ফিরত। প্রতিবাদ করলেই শুরু হতো নির্যাতন আর যৌতুকের দাবী। এছাড়া শ্বশুর বাড়ির লোকজনও নির্যাতন করতো। নির্যাতনের কথাগুলো বলার সময় চোখ দিয়ে পানি আর ধরে রাখতে পারলেন না তৃপ্তি। তিনি বললেন, ২০২১ইং সালের একদিন রাতে বাড়িতে ফিরে লাঠি দিয়ে মারপিট করে আমার স্বামী। পরে মেরে ফেলা উদ্দেশ্যে মুখে বালিশ চাপা দেয়। আমি অজ্ঞান হয়ে গেলে ঘরের বাইরে রেখে দেয়। খবর পেয়ে সকালে আমার মা আমাকে নিতে গেলেও শ্বশুর বাড়ির লোকজন ছেড়ে দেয়নি। মা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিলে থানা পুলিশের মাধ্যমে আমাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা করা হয়। তৃপ্তি আরো জানান, এরপর গ্রাম্য বিচারে স্বামী আর নির্যাতন করবে না বললে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যায়। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও শুরু হয় নির্যাতন আর নির্য়াতন ।

২০২১ইং সালে একদিন প্রচন্ড নির্যাতনের পর আমার আব্বা , মা ভাইকে ডেকে এনে আমাকে নিয়ে যেতে বলে। আর আমার সাথে সংসার করবে না বলেও জানিয়ে দেয়। তখন আমি জীবনে বাচার তাগিদে নিজে বাপের বাড়ী চলে আসি । আমার আর কোন খোঁজ খবর না নেওয়ার কারনে সঠিক বিচারের আশায় আমি ব্র্যাক এনজিও এর মাধ্যমে কোর্টে মামলা করি। বর্তমান মামলাটি কোর্টে চলমান আছে বিচারের রায়ের দিকে । বর্তমান আমি আমার তিন বছরের মেয়ে সানজিদা(৩) কে নিয়ে সঠিক বিচারের আশায় বাপের বাড়ীতে আছি। তিনি দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলেন কোনো মেয়ে যেন আমার মতো নির্যাতনের শিকার না হয়। আমি চাইবো তার যেন সঠিক বিচার হয়। আর তার যেন সাজা হয়। অর্থ, সামাজিক ও মানুষিক সব দিক দিয়ে সাধারণ জীবন যাপন করছি। নির্যাতনে সঠিক বিচারের আশায় বসে আছি বাপের সংসারে বোঝা হয়ে।