১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ মঙ্গলবার
কামারখালী

বিজেএমসি’র কাছে পাওনা টাকা পরিশোধের দাবী জানিয়েছে কামারখালীর ব্যবসায়ীরা

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
পাট ব্যবসায়ীদের বিজেএমসি’র কাছে পাওনা প্রায় ২৪৫কোটির মধ্যে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজার ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ীদের পাওনা প্রায় ১২ কোটি টাকা দ্রæত সময়ে পরিশোদের অনুরোধ করেছেন পাট ব্যবসায়ী সমিতি। বিগত কয়েক বছর ধরে বিজেএমসির তত্বাবধানে ২৫টি জুট মিলের কাছে পাট বাকিতে বিক্রি করে আসছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ৪ থেকে ৭ বছর ধরে তাদের পাওনা বকেয়া প্রায় ২৪৫ কোটি টাকা না পাওয়ার কারনে বর্তমানে ব্যবসায়ীরা হতাশা ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিজেএমসির কাছে টাকা আটকে থাকার কারনে একদিকে ব্যবসা বন্ধ, অন্যদিকে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে পরেছেন মারাত্বকভাবে অর্থ সংকটে।

দ্রুত সময়ে পাওনা টাকা আদায়ে কামারখালী পাট ব্যবসায়ী সমিতি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধ্যে কামারখালী বাজার পাট বিক্রয়ের অন্যতম বাজার। এই বাজার গুলোতে রয়েছে বিজেএমসির সরকারী মিলের পাট ক্রয়ের প্রতিনিধিদের ঘর। পাট ক্রয়ের বাজার থেকে ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল থেকে অদ্য ২০২১-২০২২ইং পর্যন্ত ৭ বছর কামারখালী বাজার প্রায় ৩০জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্রেতাদের নিকট থেকে বাকি ও নগদে পাট ক্রয় করে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রনাধীন বিভিন্ন মিলে বাকিতে বিক্রয় করেছেন।

আজ পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা এসব মিল থেকে কোন টাকা পাননি। টাকা না পেয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ব্যবসায়ীরা প্রায় ১২ কোটি টাকা পান বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন বা বিজেএমসি’র কাছে। একদিকে তাদের ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে পরেছেন বিপাকে। সংসারের খরচ চালাতে তাদের এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। ব্যাংক ঋন নিয়ে ও যাদের থেকে বাকিতে পাট ক্রয় করেছেন তারা এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে টাকা না পাওয়ায় মামলা করেছেন। সরকারী মিলগুলো তাদের পাওনা প্রায় ১২ কোটি টাকা আটকে রাখার কারনে ব্যবসায়ীরা মৌসুমে ব্যবসা করতে পারছেনা। সরকারী পাট ক্রয়ের ঘরগুলো এখন তালাবদ্ধভাবে পড়ে রয়েছে। ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে পাট ক্রয়ের ঘর ও বাঁধাই বা বেল্ট করার মেশিন, যন্ত্রপাতি। অনেকের পাট ক্রয়ের ঘর ব্যবহার না হওয়া ও অযত্নে ভেঙে পড়ছে। আর কয়েকদিন পর পাট ক্রয়ের সময় অথচ অর্থাভাবে তারা পাট ক্রয় করবেন এবং ব্যবসা চালাবেন তা নিয়ে পরেছেন চিন্তায়। ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রায় ৭ বছর ধরে তারা বিজেএমসির বিভিন্ন জুট মিলে বাকিতে পাট বিক্রি করেছেন। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর লক্ষ লক্ষ টাকা মিলে আটকে আছে। এই টাকা না পাওয়ার কারনে এখন তারা ব্যবসা করতে পারছেন না। ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে পাট বাকিতে ক্রয় করে এখন তারা ঋন ও বকেয়া পরিশোধ করতে না পেরে মামলায় জর্জরিত হচ্ছেন। এই দুর্দিনে তাদের জীবন যাপন কষ্টদায়ক হয়ে পরেছে।

তাই বিজেএমসির কাছে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। সরকারের কাছে তারা কামারখালীর ব্যবসায়ীদের সমস্ত পাওনা দ্রুত সময়ে পরিশোধ করতে অনুরোধ জানান। কামারখালী পাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আরিফুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী টার্গেট বলেন, ব্যবসায়ীদের ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিজেএমসি’র কাছে পাট বিক্রির ১২ কোটি টাকা আটকে আছে। এই টাকা চলতি-২০২১-২০২২ ইং পাওয়ার কথা । কিন্তু এ টাকা সাত বছর হতে চললো কর্তৃপক্ষ পাওনা পরিশোধ করছেনা। এতে তাদের পাটের ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা। ব্যাংকের লোন ও ব্যবসায়ীরা টাকা না পাওয়ায় মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। টাকা দ্রুত সময়ে পাওয়ার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবেন সমিতির নেতারা।