১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ রবিবার
মধুখালী

বৃষ্টির পানির হাহাকারে মধুখালীতে পাট নিয়ে পাটচাষী বিপাকে

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
“সোনালী আঁশে ভরপুর ভালবাসি ফরিদপুর” প্রতি বছরই পাট চাষিরা ফরিদপুরের মধুখালীতে সোনালী আঁশের সুনাম অর্জন করে আসছেন, গেল ও এ বছর ফরিদপুরের মধুখালীর পাট চাষীরা চরম বিপাকে পড়েছেন পাট জাগ দেওয়া বা পঁচান নিয়ে। খালে বিলে নালে ডোবায় কোথায়ও পানি নাই চলচ্ছে পানির জন্য হাহাকার। সুখবর নাই বৃষ্টির। চলছে শ্রাবণ মাস বৃষ্টি না থাকায় পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। অন্যান্য বছরে এ সময় খাল, বিল, নদী নালা পানিতে ভরা থাকে কিন্তু গেল বছর ও এ বছর পানি না থাকায় কৃষকরা এখনও পাট কাটছেন না। পাট শুকাছে ক্ষেতে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাষী মো. মিরোজ বলেন, যত টুকু সম্ভব পাট কেটে নিয়ে আসছি, পানি তো নেই অনেকেই পানির কারণে পাট কাটতে পারছে না,এখন স্যালো মেশিন দিয়ে পুকুরে পানি দিয়ে পাট জাগ দিতে হবে এতে করে পাটের খরচ দ্বিগুন বা তিনগুন বেড়ে যাবে এতে করে কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের বালুচর গ্রামের পাট চাষী মোঃ আলতাফ হোসেনকে বলেন জমিতে পাট চাষ করেছি হয়েছে বাম্পার ফলন। পানির অভাবে এখন সোনালী আশ হয়েছে গলার ফাঁস।

গত বছর পানির অভাবে অনেক কষ্ট করে নসিমনে করে নিয়ে বিলে জাগ দেই । ভেবেছিলাম এ বছর হয়তো তেমনটি হবে না কারন বছরের শুরুতেই যেভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল।এখন তেমনটি লক্ষণ নাই বৃষ্টির।ক্ষেতে পাট শুকাতে শুরু করেছে লোকসানের সমুক্ষিণই হতে হবে-লাভের কোন সম্ভব নাই। যেটা খরচ হয়েছিল সেটা আর ঘরে আসবে না। এ ভাবে প্রাকৃতিক দুরে‌্যাগ হলে আর কৃষি কাজ করা হবে না । অপর পাট চাষী রফিক মল্লিক বলেন এ বছরতো গেল আগামীতে আখ রোপন ছাড়া উপায় নাই।এক আটি পাট কাটা ধোয়া নেওয়া ঘরে তোলা পর্যন্ত ১৪ টাকার বেশী খরচ । এক আটি পাটে কত গ্রাম হবে আর তার দাম কত ? সে জন্য আখ চাষের বিকল্প নাই।আখ চাষ করলেতো আর পানির চিন্তা থাকবে না। আখক্ষেতে পানির প্রয়োজন হলে সেচের ব্যবস্থা করা যাবে আর সেচ দিয়েতো আর পাট জাগ দেওয়া যাবে না।

সেচ দিয়ে পাট জাগ দিলেও দুদিনেই শুকিয়ে যাবে সেক্ষেত্রে খরচের পরিমানও বেরে যাবে । উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলভীর রহমানের কাছে তার মোবাইলে চাষিদের পাট নিয়ে যে দুর্দশা বিকল্প কোন চিন্তা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান এ বছর ১টি পৌরসভা সহ ১১টি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিছুই করার নাই। তবে চাষি ইচ্ছা করলে আধুনিক যন্ত্র দ্বারা রিবন রেটিং করে বা পাটগাছ থেকে ছাল বা বাকল আলাদা করার পর ঐ ছাল বা বাকলকে অল্প পানিতে জাগ বা পচানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাটচাষি উপকৃত হবেন এবং খরচ একটু কমে আসবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ পদ্ধতি খুবই সময় উপযোগি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে পাটের ছাল ছাড়ানো যেমন সহজ তেমনি খরচও কম।