১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ রবিবার
কামারখালী

বৃষ্টি হলেই উদ্দীপন বিদ্যানিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান গেট দিয়ে স্কুলের মাঠে পানি প্রবেশ করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজারের সংলগ্ন আদর্শ একটি বিদ্যাপিঠ। যার নাম উদ্দীপন বিদ্যানিকেতন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলের আশে পাশে ড্রেন ব্যবস্থা থাকলেও সেটা বিলুপ্তির পথে। পাশাপাশি বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রায় বিলুপ্তির পথে। তার একমাত্র কারন যার যার দোকানের সামনে এবং আশে পাশের গলি বন্ধ করে ফেলেছে। কথা চলে আসে আয় খাবো কিন্তু ব্যয় করবো না। তাহলে প্রশ্ন উঠে বাজারের উন্নয়নের টাকা কোথায়। ঠিক এমনই প্রভাব পড়েছে কামারখালী বাজারের উপর। এর আয় সবাই খাচ্ছে যেমন চেয়ারম্যান, মেম্বর, বাজার বণিক সমিতি, ইজারা কর্তৃপক্ষ কিন্তু কারও বাজার উন্নয়ন করার মাথা ব্যথা নাই। কারন বাজারেরতো মানুষের মত কথা বলার কিংবা ব্যথা পেলে যে একটি ঘটনা ঘটাবে তাতো পারছে না কারন বাজারতো জড় পদার্থ। বাজারের উন্নয়ন বাজারের ক্ষমতা নাই।

বাজারের উন্নয়ন অর্থ ও মানুষ দিয়ে করতে হয়। বাজারের টাকা আছে মানুষ নাই। হাট-বাজার প্রতি বছর ৩৫-৩৭ লক্ষ টাকা বিক্রী হয়। তাতে উন্নয়নের টাকা থাকে। তাহলে সে টাকা যায় কোথায় জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ। তাই আস্তে আস্তে বাজার ময়লা -আবর্জনা ভরে যাচ্ছে পাশা পাশি ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর বৃষ্টিতো কারও কথা শুনছে না, কারও নিষেধ মানছে না আল্লাহ রহমত আকাশে মেঘ থাকলে বৃষ্টি হবেই। আর এই বৃষ্টির পানি বাজারের সকল গেট বন্ধ থাকার কারনে বাজারের প্রধান গেট দিয়ে স্কুলের প্রধান গেটে প্রবেশ করে স্কুলের মাঠ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলো দেখেও বাজার কমিটি, বাজার বণিক সমিতি, চেয়ারম্যান, মেম্বর, সমাজের সচেতন নাগরিক সবাই চোখ আড়াল করে রাখছে। চোখ খুলছে না, চোখ বন্ধ করে রাখছে, দেখেও সবাই নিরব হয়ে আছে। কিন্তু ভোগান্তির শিকারে পড়ছে স্কুলের শিক্ষক মন্ডলী এবং শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়রা জানায়, মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সে সময় শিশু শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তব ভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী পূর্ন্য বলেন, আমরা টিফিনের সময়গুলো মাঠে বসে কাটাতাম। কিন্তু এখন জলাবদ্ধতার কারণে মাঠের আশেপাশে চলাফেরা করা যাচ্ছে না। আরেক শিক্ষার্থী সন্দীপ মিত্র বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। দীর্ঘদিন যাবৎ জলাবদ্ধতা থাকলেও তা নিরসনে কোন ধরনের ব্যবস্থা নাই। সমস্যার কথা বলতে গিয়ে শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আহমেদ মুসা বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে পানি আটকে থাকে তাই আমরা খেলাধুলা করতে পারিনা। আমরা মাঠে হাঁটাহাঁটি করতে পারিনা। স্কুলে এসে সবসময় শ্রেণিকক্ষে সময় কাটাতে হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শারমীম আখতার বলেন বাজারের ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে বৃষ্টি আসলেই বাজারের পানি আমার স্কুলের প্রধান গেট দিয়ে স্কুলের মাঠে নেমে আসে। এর ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের প্রবেশ করার কোনো সুযোগ থাকে না। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো যাতে খুব দ্রæততম সময়ের মধ্যেই সমস্যাটির সমাধান করা যায়।