মধুখালীতে দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে কৃষকের কাটা ধান ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
সারাদেশে ঘূণিঝড়ে জাওয়াদের প্রবাবে হটাৎ বৃস্টি ও ঝড়ে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন মাঠে তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে ও পানির নিচে তলিয়ে আছে প্রধান ফসল রোপা আমন ধান সহ মসুর, রবি সরিষা, রসুন, পেঁয়াজ ও শাকসবজির ক্ষেত। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার কয়েক হাজার হাজার চাষি। ফসল রক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও এই বৃষ্টিতে মিলছে না শ্রমিক। ফলে ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে ধান। মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলভি রহমান বলেন এ বছর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৮হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আবাদ করা হয়েছে ৮হাজার ৪৪০ হেক্টর যা ৪ হেক্টর পরিমান বেশী।

সরেজমিনে উপজেলার কামারখালী, কোড়কদি, নরকোনা, আড়পাড়া সহ আরো মাঠে গিয়ে দেখা যায় বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কাটা ধান ও রবি শষ্য। অনেক ক্ষেতে ধান ও রবি শষ্য পচে যাবে পানি না টানার কারনে তার একমাত্র কারন অনেক খালের কালভাট ড্রেন লাইন বন্ধ আবার অনেক মাঠে ড্রেন লাইন নাই স্যালোমেশিন জুড়ে পানি সেচের ব্যবস্থা করছে । তবে অন্তত বিচালি (খড়) যাতে পাওয়া যায় সে চেষ্টায় ব্যস্ত কৃষকরা। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর এক বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে শ্রমিক খরচ আরও প্রায় তিন হাজার টাকা বেড়ে ১৫ হাজারে ঠেঁকছে। গো-খাদ্য বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার্য বিচালি বা খড় পচে যাওয়ায় ক্ষতি আরও বেড়েছে। আড়পাড়া ইউনিয়নের কৃষক মোঃ মোস্তফা বলেন, সাধারণত এক বিঘা (৪৬ শতক হিসেবে) জমিতে ৩০ মণ হারে ফলন হয়। সেখানে বৃষ্টির কারণে পানিতে ডুবে যাওয়ায় আট থেকে ১০ মণের মতো ধান ঝরে যাবে। বিচালিও পচে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক কবির বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় মাঠের কাটা ধানগুলো পানিতে ডুবে গেছে।

এখন প্রতি বিঘা জমিতে চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক বেশি লাগবে। আগে যেখানে এক বিঘা জমিতে খরচ হতো আড়াই হাজার টাকা, সেখানে এখন অতিরিক্ত খরচ হবে তিন থেকে চার হাজার টাকা। এখনতো বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করার মতো শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। মধুখালী উপজেলার কৃষক নিয়াম ও লাভলু বলেন, দুইদিনের বৃষ্টিতে বিচালির ক্ষতি হবে। এই ধান থেকে পরে বীজও করা সম্ভব হবে না। ধান কলো হয়ে যাবে এবং ভাতও খাওয়া যাবে না। এ অবস্থায় সরকার যদি কোনো অনুদান দেয়, তাহলে হয়তো কিছু উপকার হবে। মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আলভি রহমান বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ড্রেন পরিস্কার না থাকার কারনে বৃষ্টির পানি বের হতে পারে নাই তাই টানা বৃষ্টিতে অন্যান্য ফসলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জমির পানি দ্রæত বের করে দিলে এবং আবহাওয়া ভালো হলে উল্টে পাল্টে এসব ধান শুকালে ক্ষতি কিছুটা কম হবে এবং আশা করা যায় অন্যান্য রবি শষ্য বাচবে।