১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শনিবার
কামারখালী

মাথা গোঁজার ঠাই নাই বৃদ্ধা আমেনা বেগমের

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
‘শুনছি এই গ্রামে অনেকে সরকারী নতুন ঘর পাইছে । আমার ছোট ছেলে জাফরের ঝুঁপড়ি ঘরডা বদলায় নাই। মাথা গোজার ঠাঁই নাই।’ – এ কথা ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মছলন্দপুর গ্রামের ভূমিহীন অসহায় আশি বছরের আমেনা বেগমের । কামারখালী ৭নং ওয়ার্ডের বসবাসকারী মছলন্দপুর গ্রামে নড়বড়ে বাঁশের খুঁটির ঝুঁপড়ি ঘরেই জাফরের ঘরে আমেনা বেগমের বসবাস। কামারখালী ৭নং ওয়ার্ডের মছলন্দপুর গ্রামের বজলুর শেখ এর স্ত্রী বৃদ্ধা আমেনা বেগম। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াসের মতো চরভূমে বিপদাপন্ন নানা সব ঘটনার স্বাক্ষী বয়সের ভারের এই আমেনা বেগম। চোখের সামনে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশিদের নানা চড়াই-উৎড়াই দেখেছেন তিনি। হাত বাড়িয়েছেন ঝড়-ঝঞ্জা, জলোচ্ছ¡াসের মতো অনেকের বিপদে-আপদে।

কিন্তু ১৯৬৯ইং সনে স্বামী ফেলে রেখে চলে যাওয়ার পর থেকে নিজেই বিপদাপন্ন। ছোট ছেলে জাফরের সংসারে থেকে এবং সরকারী ভাতা পেয়ে কোনমতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি। তিন ছেলে, তিন মেয়ের জননী আমেনা বেগম। বর্তমান আমার এক ছেলে এক মেয়ে বেচেঁ আছে। মেয়েদেরকে বিয়ে দেয়ার পর যেটুকু সহায়-সম্বল ছিল এখন বাড়ী ছাড়া আর কিছু নাই। ছোট ছেলে জাফর পরের কাজ করে খায়। ছেলেটির স্ত্রী নাই এক ছেলে এক মেয়ে আছে রেখে মারা যায়। মেয়েটি বর্তমান কলেজে একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি হয়েছে বিবাহের বয়স হওয়ার পথে তবে ওর মা নাই আবার ওদের তেমন কোন ঘর নাই। বয়স্ক ভাতা আর প্রতিবেশিদের দয়ার জীবন যেন তার। অসুখ-বিসুখে খবর পেয়ে ছোট ছেলে ও নাতী-নাতীনরা ছুটে না এলে কেবল প্রতিবেশি ছাড়া দেখ ভালের আর কোন ভরসা নেই।

কেবল স্বামীর ভিটে টুকুই বাকি আছে, এর মায়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ঝুঁপড়ি ঘরেই বসবাস তার। ঘরের দরজায় বসে বৈরী আচরণে জীবন-সংসার ছিন্নভিন্ন করা অপলক তাকিয়ে এক বিমূর্ত ভাবনায় বিভোর আমেনা বেগম। আমেনার এক চোখ ছানি পড়ে গেছে । আমেনা বেগম বলেন, ‘কই যামু। যাওনের আর জায়গা নাই। যদি এই স্বামীর ভিটে একটা সরকারী ঘর পাইতাম। মরেও শান্তি পেতাম। আমার ছেলের ঘরডার খুঁডি বদলায় নাই। আমার মাথা গোজার ঠাঁই নাই। এক সময় অনেকের বিপদে-আপদে হাত বাড়াইছি। এ্যাহন করোনা কালে কেউ একটু সাহায্য সহযোগিতাও করতে চায় না।’ তাই স্থানীয় সরকার এর নিকট আমার দাবী আমাকে যেন একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়।