১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ মঙ্গলবার
আড়পাড়া

শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান এর নাম ফলক ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে আছে, দেখার কেহ নাই

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
অযত্নে-অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলীন হতে বসেছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে করা সড়কের ফলকের অস্তিত্ব। বর্তমানে নাম ফলকগুলো অস্তিত্ব সংকটসহ ভেঙ্গে রাস্তার ধারে পড়ে আছে অযত্নে ও অবহেলায়। ফলকটি হল আড়পাড়া ইউনিয়নের আড়পাড়া টোল-ভিট এর আগে উজির শিকদার এর দোকানের সামনে থেকে দক্ষিনে। যেটা আড়পাড়া টোলভিট থেকে জামালপুর বালিয়াকান্দি সড়ক নামে পরিচিত। এই সড়কেই স্মৃতি ফলক শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান নামে। বর্তমান ভাঙ্গা । তাই স্থানীয় ও শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান এর ছেলে মোঃ জাকির হোসেন এর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাত্তরের রণাঙ্গনে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সড়কের নামকরণের দাবি তোলেন মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়রা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে এল.জি.ডি অর্থায়ন দৃশ্যমান ফলক নির্মাণ করা হয়। সেই ফলকে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম লেখা রয়েছে। বর্তমান ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে আছে। এ ব্যপারে সাবেক ডুমাইন ইউনিয়ন বর্তমান আড়পাড়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সাজের্ন্ট মোঃ ওয়ালিউর রহমান বলেন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান এর বাড়ী ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে। তিনি তদানিন্তন ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলস-এ চাকুরী করতেন।

১৯৭১ সালে ১০ই ডিসেম্বর ডুমাইন হরিপদ খালের পূর্বপাশে মুক্তিবাহিনী ও পাকসেনাদের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হওয়ায় যুদ্ধে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আহত অবস্থায় পাকসেনাদের হাতে ধৃত হন। পরে গড়িয়াদহ খালের মাথায় রাস্তার পাশে এনে শহীদ করে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ খুরশিদ আলম ভূইয়া বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত সব ধরনের কাজে ব্যবহার হবে সেই আশা নিয়ে বীর শহীদের নামে সড়কের নামকরণ করা হয়। সব ক্ষেত্রে এই নাম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয় তখন। কিন্তু ব্যবহার তো দূরের কথা; তা এখন প্রায় ধ্বংসের পথে।’ তিনি বলেন, ‘বীর শহীদদের নামের ফলকের অস্তিত্ব এভাবে ধ্বংস হতে দেখলে খুবই কষ্ট লাগে। আমি প্রশাসনের কাছে বীর শহীদদের স্মৃতি রক্ষা ও এর ফলকের মেরামত সহ ব্যবহারের দাবি জানাই।’ শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান এর ছেলে জাকির হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের নামকরণ এবং ফলক বসানো হয়েছে ঠিকই, তবে এর সঠিক সংরক্ষণ হয়নি ফলে ফলকটি ভেঙ্গে পড়ে আছে। তাই শহীদ পরিবারের আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন মোল্যা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধ সংসদ এবং নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আশিকুর রহমান চৌধুরী’র নিকট আমার পিতা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানের নামফলক রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য দাবী জানান।