শেষ বয়সে গোবরের লাঠির ভ্যানই সালাম মল্লিকের শেষ অবলম্বন

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
যে বয়সে সন্তান-নাতি-নাতনি নিয়ে আনন্দ-ফূর্তিতে সময় কাটানোর কথা; আর সে বয়সেই ভাবতে হচ্ছে পেটের ক্ষুধা নিবারণের কথা।৩৫ বছর আগে যে ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরেছিলেন জীবিকার তাগিদে, তা আজও ধরে রয়েছেন। ভ্যান চালিয়ে ছেলে-মেয়ে বড় করেছেন, তাদের ঘরে ছেলে-মেয়ে হয়েছে। তবে শেষ বয়সে এসে একটু আরাম-আয়েশে জীবন কাটাবেন, তা আর হয়ে ওঠেনি। অনেকের ছেলে-মেয়ে থাকলেও অভাব-অনটনের কারণে বৃদ্ধ বয়সী পিতামাতার দায়িত্ব তেমন না নেওয়ায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই ভ্যান চালিয়ে গ্রাম থেকে গোবরের লাঠি এনে বাজারে বিক্রী করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে যার ছেলে সন্তান থাকলেও তেমন দায়িত্ব নেন না বৃদ্ধা মা-বাবার।
তাই জীবন যুদ্ধে দু-বেলা দু-মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য অন্য কোনো উপায় না পেয়ে ভ্যান চালিয়ে বিভিন্ন পাড়ার গোবরের লাঠি কিনে বাজারে বিক্রী করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি হলেন মধুখালী উপজেলার বৃদ্ধ সালাম মল্লিক । ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের মধ্য আড়পাড়া মল্লিক পাড়া এলাকার মৃত গহের মল্লিক এর ছেলে সালাম মল্লিক (৭৪)। যার পাঁচ ছেলে-মেয়ে থাকলেও এই বৃদ্ধ বয়সে এখনো তাকে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি ভ্যান চালান। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তার শরীরে বিভিন্ন চর্মরোগের লক্ষন দেখা যায়। টাকার অভাবে চিকিৎসা হতে পারেন না । তাই নিয়মিত পারেন না ভ্যান চালাতে। তারপরও ভ্যান চালাতে হচ্ছে শরীর ভালো থাকা ও জীবিকার তাগিদে। অনেকেই চেয়ারম্যান-মেম্বার থেকে সুবিধা পান কিন্তু তিনি পান না। তিনি আরও বলেন তার ওয়ার্ডেও মেম্বও আবু বক্কার মল্লিক কোন খবর নেয় না এবং কোন ভাতাও করে দেয় না। তিন মেয়ে দুই ছেলে, সবাই তাদের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত। এখন বাড়িওয়ালিকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য এ বয়সেও ভ্যান চালাতে হচ্ছে। আর যে ভ্যানটি তিনি চালান, সেটিও তার ।
বৃদ্ধ বয়সে কোন লোক তার ভ্যানে উঠে না যার কারনে আর ভ্যানে কোন ভাড়া টানে না শুধু মানুষের বাড়ী থেকে গোবরের লাঠি কিনে ভ্যানে বোঝাই করে বাজারের বিভিন্ন হোটেলে বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলে। বর্তমান তিনি তার ছোট ছেলের সংসারে আছে। তার ছোট ছেলে জান্নাত বলেন আব্বাকে শত নিষেধ করার পরেও তিনি শোনে না ভ্যান চালাবেই। এ বিয়য়ে সালাম মল্লিক বলেন ভ্যান না চালালে আমার শরীর ভালো থাকে না তাই শরীর ভালো রাখা ও জীবন বাচার তাগিদে এই বয়সে ভ্যান চালাই। এ ব্যাপারে আড়পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন মোল্যা বলেন, যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি তাদের আমরা সরকারের বিভিন্ন ফান্ড থেকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ফান্ড কম থাকায় সবাইকে একত্রে সহায়তা করা সম্ভব নয়। তারপরও চেষ্টা করছি। আশা করি এবার সরকারী ভাবে বয়স্ক ভাতা এলে ব্যবস্থা করে দিবো।