সবজির আগুন দামে নাজেহাল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
২০০-২৫০ টাকার নিচে নেই কোনো ভালো মাছ, ১৮০ টাকা কেজি ব্রয়লার মুরগি, ৬৫০ টাকা কেজি গরুর মাংস, ১০০০ টাকা কেজি খাসির মাংস, ভরা মৌসুম থাকলেও চড়া সবজির বাজার। মোটা চালের কেজি ৫৫ টাকা, সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকা। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বাড়ন্ত। বাজারের এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা অসহায় নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ। কিছু দাম কমানোর আশায় এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে ঘুরে হয়রান তারা। সোমবার (২২শে আগষ্ঠ) কামারখালী বাজারে পাইকারি ও খুচরা মাছ, সবজি, মুদি বাজার ঘুরে এমন পরিস্থিতিই দেখা যায়। আবার পাইকারি বাজারেই এমন বেশি দামে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায় অনেককে। সরেজমিনে কামারখালী মাছ ও সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বড় রুই মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই মাছ ২৫০-২৭০ টাকা, ছোট কাতল মাছ ২৫০-৩০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ টাকা, বড় পাঙ্গাশ মাছ-১৫০ -২৮০-৩০০ টাকা, আকার ভেদে ইলিশ মাছ ৭০০-১২০০ টাকা, সিলভার কার্প মাছ ১২০- ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের মধ্যে চিংড়ি ৫০০ টাকা, কাচকি ৫০০-৮০০ টাকা, মলা ৩০০-৫০০ টাকা, টাটকিনি ৩০০-৪০০ টাকা, পাবদা ৩০০-৪০০ টাকা, গলদা চিংড়ি আকার ভেদে ৬৫০-৭৫০ টাকা কেজি বিক্রি গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মাছ বাজার কিছুটা চড়া জানিয়ে সাকিব, কালু,
শৈলেন, স্বপন নামে গোশত ও মাছ বিক্রেতা বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত মাছের সরবরাহ থাকার পরও খাবারের দাম ও জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। শুধুমাত্র হোটেলগুলোতেই বড় মাছ বিক্রি হচ্ছে। খুব কম সংখ্যক সাধারণ মানুষই বড় মাছ কিনছে। অতিরিক্ত দাম নিয়ে আমাদেরও কিছু বলার নেই। অপরদিকে বাজারে শাক সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও চড়া সবজির বাজার। সবজি বিক্রেতা হাসান বলেন গোল বেগুন ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০টাকা, শসা ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৪০ টাকা, রসুন ৬০ টাকা, গোল আলু ৩০ টাকা, দেশী আদা ১০০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও লাউ ৩০-৬০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। মুদি পণ্যের মধ্যে ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন মুগডাল ১১৫ টাকা, বুটের ডাল ৬০ টাকা, মসুর ডাল ১৩০ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা, খোলা মিনিকেট চাল ৭৬ টাকা, চিনি ৮৭ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
জিন্নাহ নামে এক ক্রেতা বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় এমন কোনো পণ্য নেই যার দাম বাড়েনি। সংসার চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা হিমশিম খাচ্ছি। সবকিছুর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে চলার উপায় থাকবে না। কিছুটা কম দামে জিনিস কেনার আশায় মধুখালী এসেছিলাম। এখানেও দেখি একই অবস্থা। পাইকারি খুচরা সবখানেই প্রায় একই রকম দাম। স্বস্তি নেই আমিষের সহজলভ্য উপাদান মুরগির বাজারেও। সিরাজ বলেন কেজি প্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, লাল লেয়ার মুরগি ২৮০ টাকা, সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০টাকা দেশী ৪০০ টাকায়। তাছাড়া গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। পরিশেষে গোপন সংবাদের জানা যায় মোকামের দামের চেয়ে দোকানদাররা বেশী দামে বিক্রি করছে। যাহা প্রশাসনের নিকট দাবী বাজার মনিটরিং অতিব জরুরী বলে সাধারন , নিম্ন , মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা মনে করেন।