৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শনিবার
কামারখালী

স্কুলের সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্কুলে তালা, শিক্ষককে লাঞ্চিত ও মারপিট এবং আসবাবপত্র ভাংচুর, থানায় অভিযোগ হওয়ায়, গ্রামের শান্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্টানের শৃংখলা ও উন্নতি ফিরিয়ে আনতে অগ্রনী ভূমিকা চেয়ারম্যান বাবু

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের দয়ারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গত রবিবার (২৪-১০-২০২১) ইং তারিখ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। নির্বাচনে প্রার্থী দুইজন সাবেক সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর খাঁন ও মোঃ আমজাদ হোসেন বিশ্বাস। এই নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন মধুখালী উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মোহাম্মাদ রুহল আমিন। নির্বাচনে ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নিবাচিত হয় মোঃ আমজাদ হোসেন বিশ্বাস। তিনি ভোট পেয়েছেন ৬টি। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি পেয়েছেন ৩টি। ভোট বাতিল ১টি। জানা যায় এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত সোমবার (২৫-১০-২০২১)ইং তারিখ সকালে মোঃ জাহাঙ্গীর খাঁনের পক্ষের লোকজন ইউ.পি. সদস্য মোঃ ফরিদ হোসেন, মোঃ ফজলুল হক, মোঃ সাইফুল ইসলাম মোঃ আকরাম হোসেন সহ আরো অনেকে স্কুলে গিয়ে স্কুলে তালা মেরে শিক্ষক মন্ডলী শিখারানী বকসি, মোছাঃ পাপিয়া খাতুন, অফিস সহকারী মোঃ সালাউদ্দিন সহ আরো শিক্ষককে লাঞ্চিত, মারপিট এবং আসবাবপত্র ভেঙ্গে স্কুল থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এই সংবাদ পেয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আশিকুর রহমান চৌধুরী,

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ পারমিস সুলতানা, মধুখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম এর এস.আই. মোঃ মাসুদ রানা স্কুলে এসে ঘটনা সত্যতা পেয়ে মোঃ ফরিদ হোসেন, মোঃ ফজলুল হক ও ইমদাদুল হককে প্রশাসন গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর থানায় অত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবুল হোসেন মীর বাদী হয়ে এদের নাম সহ আরো অনেকের নামে অভিযোগ করে। পরে গ্রামে শান্তির লক্ষে এবং শিক্ষা প্রতিষ্টানের শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য কামারখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস বাবু ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফর রহমান মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট জিম্মাদার হয়ে বিবাদী গ্রেফতারগনকে থানা থেকে নিয়ে আসে। এই লক্ষে মঙ্গলবার(২৬-১০-২০২১)ইং সকালে গ্রামের সকল গন্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষকগন, যুব সমাজ এবং বাদী ও বিবাদীগনকে নিয়ে দয়ারামপুর স্কুল মাঠে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস বাবু’র সভাপতিত্বে ও মধুখালী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ ইনামূল হক মাহাবুব এর সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

গ্রামের শান্তি ও স্কুলের নিয়ম শৃংখলা ফিরিয়ে আনার লক্ষে বিবাদী মোঃ জাহাঙ্গীর খাঁন ও বাদী মোঃ বাবুল হোসেন মীর এর সকল কথা শুনে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কামারখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস (বাবু), সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফর রহমান, দয়ারামপুর গ্রামের ও ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মাদ আলী, নাওড়া পাড়া গ্রামের ও কামারখালী চাঁদতারা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মোঃ আমিন উদ্দিন জিহাদী, মধুখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ নাজির হোসেন, কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ বশীর উদ্দিন, কামারখালী ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের মোঃ আজিজুর রহমান কবি প্রমুখ। পরিশেষে সবার বক্তব্য ও গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তির কথাবাত্রা শুনে এবং সবার সম্মতিক্রমে গ্রামের শান্তি, স্কুলের নিয়ম শৃংখলা এবং উন্নতি ফিরিয়ে আনার লক্ষে স্কুলের শিক্ষকমন্ডলী লাঞ্চিত, মারপিট, আসবাব পত্র ভাংচুর সব কিছুর কথা ভ‚লে গিয়ে ৩০০(তিনশত) টাকার স্টাম্পে বিভিন্ন শর্ত লিখিত করে দুই পক্ষ এবং

গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহির মাধ্যমে বাদীর বিবাদীর মামলা চেয়ারম্যানের নিজ দায়িত্বে তুলে নেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে সবাইকে এক করে, মিলেমিশে চলার আহবান রেখে সকল প্রকার দ্বিধা দ্বন্ধ অবসান করে দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আশিকুর রহমান চৌধুরী ও মধুখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলামকে অবগত করে শান্তির লক্ষে কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান বিশ্বাস (বাবু) আলোচনা সভা শেষ করেন।