স্বামী পরিত্যক্ত নারীর ভাগ্যে জোটেনি নতুন ঘর

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজারে জরাজীর্ণ হেলে যাওয়া পরের ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করছে স্বামী পরিত্যক্ত গরীব অসহায় এক নারী। সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। জানা যায় স্বামী পরিত্যক্তা নারীর বাড়ী কামারখালী ইউনিয়নে মাঝিবাড়ী গ্রামে। নাম কৃষ্ণা রানী দক্ত। তার গত প্রায় ২৫ বছর আগে কালীগঞ্জ এর নলডাঙ্গা গ্রামে রমেশ দত্তের ছেলে দিলীপ দত্তের সাথে প্রাইমারী স্কুলের চাকুরী দিয়ে বিবাহ হয়। বিবাহের পর এক মেয়ে হওয়া অবস্থায় স্বামী তাকে ফেলে চলে যায়। আর কোন খবর রাখে না। মেয়ের নাম বৈশাখী দত্ত।
বর্তমান কৃষ্ণা রানী স্বামী পরিত্যক্ত অবস্থায় কামারখালী বাজার পরের ঘরের ঢালা ভাঙ্গা পশ্চিম পাশের বেড়া নেই, দরজা -জানালা পুরানো কাপড় দিয়ে মুড়ানো আবর্জনা স্তুপের জরাজীর্ণ ঘরে বাস করে। এ প্রসঙ্গে কৃষ্ণা রানী দত্ত জানান ২৫ বছর আগে একটি কন্যা সন্তান রেখে স্বামী দিলিপ কুমার দত্ত চলে যায়। সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা মাকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ি। তখনের সমাজের সৎ ও মহৎ মানুষ মোতাহারুল ইসলাম মিয়া খোকা ভ্যান্ডার তার ঘরে বিনা ভাড়ায় থাকতে দেয়। বর্তমান মেয়েটি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে কামারখালী মোল্যাপাড়া’র মোহন মোল্যার ছেলে হীরক মোল্যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে শশুর বাড়ী সংসার করে। রান্না করার শক্তি নেই । মেয়ের অসচ্ছল সংসারে যা জোটে তাই দিয়ে যায় ওটা খেয়ে জীবন চলে। রোগ-শোক আকড়ে ধরেছে প্রতিদিন ৫০-৬০টাকার ঔষধ খেতে হয়। সারা দিন বিছানায় পরে থাকি। দুঃচিন্তা কুড়ে কুড়ে খায়। মালিক যদি ঘর থেকে নামিয়ে দেয় তাহলে রাস্তায় পড়ে থাকা ছাড়া কোন উপায় নাই।
শীতের রাতে পুড়ন কাপড় দিয়ে দরজা-জানালা ঘিরে রাখি। ভাবছি এবার ঝড়ের মধ্যে বেচে থাকতে পারবো কিনা জানিনা। বৃস্টি এলে ঘর জলে ভেসে যায়। সারারাত বসে থাকি। এতো কষ্ট এই বৃদ্ধা বয়সে সহ্য হয় না। ভগবান নিয়ে গেলে বেচে যাতাম। সারাজীবনে একটু সুখের মুখ দেখলাম না। এমন কপাল যেন ভগবান আর কারো না দেয়। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে আরো বলেন আমার খোঁজ-খবর না নেয় না। পুড়ন ঘরের টিন মরিচা ধরে খসে পড়ছে । পশ্চিম পাশের বেড়া নাই। যখন, তখন ঘরে কুকুর বিড়াল ঢুকে পড়ে । আশ-পাশ খাবার জলের কোন ব্যবস্থা নাই্ । দুরে সাবেক মেম্বর নান্নু’র চাপ কল থেকে জল এনে জীবন বাচাঁতে হয়। মলত্যাগের ব্যবস্থা নাই। এ ভাবে বাচাঁর চেয়ে শশ্মানে স্থান হলে ভালো হতো। আরো বলেন আমাদের মানবতার বাতি ঘর সাম্যতার প্রতিক উন্নয়নের আলো মাননীয় জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি ভ‚মি ও গ্রহহীন মানুষের এত ঘর দেয় তাহলে কি আমার ভাগ্যে শেষ বয়সে একটি নতুন ঘর হবে না।
এ বিষয়ে তার জামাই হীরোক মোল্যা বলেন আমার ঘর করে দেওয়ার সামর্থ নাই। প্রধানমন্ত্রী যদি একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে ঘর করতে যে জমি লাগে আমার ভিটেয় তার জমি দেবো। তার প্রতিবেশী হাফিজুল, রানা, ইকবাল, তালহা সহ অনেকে জানান কালি দিদির জীবন চিত্র সেই জসীম উদ্দিনের আসমানী কবিতার হার মানাবে। গ্রামের বিশিষ্ঠ সমাজসেবক মোঃ ফরিদ মোল্যা সহ এলাকা বাসী শেষ বয়সে তার একটি নতুন ঘরের জন্য কামারখালী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সহ উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নিকট জোর দাবী করেন।