১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
- ৮নং সেক্টরের ভোমরা নামক স্থানে মুক্তিবাহিনী পাকহানাদার বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে ২ জন পাকসেনা নিহত হয়।
- মুক্তিবাহিনী কুমিল্লা জেলার গুথুমা নদীতে টহলরত পাকসেনাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে পাকবাহিনীর ৪ জন সৈন্য হতাহত হয়।
- ২নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর মান্দাবাগ এরাকায় পাকহানাদার বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায় এই আক্রমণে ১৫ জন পাকসেনা নিহত হয়।
- ১নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী সমরকান্দ এলাকায় পাকবাহিনীর একটি টহলদার দলকে অ্যামবুশ করে। এই অ্যামবুশে ৫ জন পাকসৈন্য হতাহত হয় এবং বাকী সৈন্য যুদ্ধ না করেই পিছু হটে।
- ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মুক্তিবাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে ২ জন পাকসেনা নিহত ও অপর ২ জন আহত হয়।
- মুক্তিযোদ্ধারা সাটানি, নারায়ণঘাট, আবাদের হাট ও কাকভাঙ্গায় পাকবাহিনরি সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। দীর্ঘ গোলাবিনিময়ের পর ১০ জন পাকসৈন্য নিহত হয়। অপরদিকে ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
- পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির সহ-সভাপতি মাহমুদ আলী পাকিস্তান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে ইউরোপ ও আমেরিকা সফর শেষে ঢাকা আসেন। তিনি বলেন, ইউরোপের বেতার, টিভি, সংবাদপত্রগুলো একই সুরে প্রচার করে চরেছে পূর্ব পাকিস্তানে একটা অঘটন ঘটে গেছে। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক নির্বাচনে যে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে তাদের ক্ষমতা না দিয়ে সেনাবাহিনী সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের জনগণের দাবি নস্যাৎ করতে চায়। কারণ নির্বাচনের ফলাফল পশ্চিম পাকিস্তানিদের মনঃপুত হয়নি।তিনি বলেন, ইউরোপের বুদ্ধিজীবীরা আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন, যা ঘটবার ঘটেছে। এখন যারা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তাদের নেতার সাথে আপোস করে সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।তিনি আরো বলেন, পশ্চিমা দেশসমূহে এই ধারণ জন্মেছে যে, পাকিস্তানে নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তাদের সাথে আপোষ না করলে বর্তমানে সমস্যার সমাধান হবে না আমরা তাদের বলেছি নীতিগতভাবে আমরা এর বিরোধী নই। তবে নির্বাচনে যে দল জয়ী হয়েছে সেই দলের নেতা পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছেন। এমন নেতৃত্বের সাথে আপোস হতে পারে না। আজ তাঁর সঙ্গে যতি কোনো মীমাংসায় আসতে হয় তবে তা অখণ্ড পাকিস্তানের ভিত্তিতে হতে হবে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
- মুক্তিবাহিনী লে. মোরশেদের নেতৃত্বে আখাউড়াÑহরশপুর রেলওয়ে লাইনে মুকুন্দপুরের কাছে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মাইন পুঁতে তার সাথে বৈদ্যুতিক তার যোগ করে ৩০০ গজ দুরে রিমোট কন্ট্রোল স্থাপন করে অবস্থান নেয়। পাকবাহিনীর এক কোম্পানি সৈন্য বোঝাই একটি ট্রেন অ্যামবুশ অবস্থানের দিকে অগ্রসর হয়ে মাইনের উপরে এলে মুক্তিযোদ্ধারা সুইচ টিপে মাইন বিস্ফোরণ করে। এতে ইঞ্জিনসহ ট্রেনটি বিধ্বস্ত হয় এবং দুইজন অফিসারসহ ২৭ জন পাকসেনা নিহত হয়। মুক্তিযুদ্ধে বৈদ্যুতিক প্রক্রিয়ায় ট্রেন ধ্বংস এটাই প্রথম।
- সিলেটে মুক্তিবাহিনীর ৫০ জন যোদ্ধার একটি দল পকসেনাদের শাহবাজপুর অবস্থানের ওপর আক্রমণ চালায়। ১০ মিনিট পর পাকসেনারা পাল্টা আক্রমণ চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে ১৫ জন পাকসৈন্য ও রাজাকার নিহত হয়। মুক্তিবাহিনী অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে আসে।
- ৭নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী রামচন্দ্রপুর পাকবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি আক্রমণ করে। এই আক্রমণে পাকবাহিনীর ২০ জন সৈন্য ও ১২ জন রাজাকার নিহত এবং ১৩ জন সৈন্য আহত হয়। অপরপক্ষে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও দুইজন যোদ্ধা আহত হন।
- মুক্তিবাহিনী খুলনার হরিনগরে পাকবাহিনীর একটি গানবোট ও সৈন্য বোঝাই কিছু লঞ্চকে অ্যামবুশ করে। এই অ্যামবুশে পাকবাহিনীর গোনবোট আরোহী নিহত এবং রাডার এন্টিনা ধ্বংস হয়। পরে প্রচণ্ড গোলাবিনিময়ে পাকসেনাদের ৪টি লঞ্চ পানিতে ডুবে যায়।
- ৮নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী বানারীপাড়ায় পাকবাহিনীর কয়েকটি লঞ্চকে আক্রমণ করে। এই আক্রমণে পাকবাহিনীর ৩টি লঞ্চ পানিতে ডুবে যায় এবং ৪০ জন পাকসৈন্য নিহত হয়।
- কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধি এইচ.সি. টেম্পেল্টন বলেন : ‘আাদের দেশের পক্ষ থেকে কমনওয়েলথ এবং যুক্তরাজ্যকে পূর্ব পকিস্তানের নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য অনুরোধ করছি। আমরা বিশ্বাস করি তাদের সরকার স্বীয় জনগণের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সঠিক নীতি অবলম্বন করবে।’
- করাচীতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও পিপলস পর্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আরী ভুট্টোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ঘটনাবলী নিয়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।