প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
উৎসবমুখর পরিবেশে, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, মন্ত্রপাঠ, সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো ১৪৫ টি মন্দিরের মধুখালী উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে বিসর্জন স্থানে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক মানুষ। রবিবার মন্দিরের পাশে পুকুরে ঐতিহ্যবাহী আউলিয়া গোস্মামী আশ্রম পূজা মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। রবিবার ছিল বিজয়া দশমী। সকালে দশমী পূজার পর দর্পণ বিসর্জন করা হয়। মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেওয়াই মূলত দুর্গাপূজার তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহŸান জানানো হয় শেষ আনুষ্ঠানিকতায়। প্রাচীন যুগ মতে, বিজয়া দশমীর অন্যতম আয়োজন ‘দেবীবরণ’। রীতি অনুযায়ী, সধবা নারীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গাকে সিঁদুর ছোঁয়ান। দেবীর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর সেই সিঁদুর প্রথমে সিঁথিতে মাখান, পরে একে অন্যের সিঁথি ও মুখে মাখেন। মুখ রঙিন করে হাসিমুখে দেবীকে বিদায় জানান, যা সিঁদুরখেলা নামে পরিচিত। মছলন্দপুর আউলিয়া গোস্মামী আশ্রম মন্দিরে সিঁদুরখেলার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। দশমী পূজার মধ্য দিয়ে মর্ত্য ছাড়েন দুর্গতিনাশিনী, ফিরেন স্বামীগৃহ কৈলাশে। বছরের আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথি থেকে দশমী তিথিতে জগজ্জননী ঊমা দেবী পিতৃগৃহ থেকে বেরিয়ে যান। মহাষষ্ঠীর দিন অকাল বোধনে স্বামীর ঘর কৈলাশ থেকে দেবীর অধিষ্ঠান হয়েছিল ঠাকুরঘরে বা পূজামন্ডপে। ষষ্ঠী থেকে দশমীর বিদায়ের সময় একদিকে আনন্দের জোয়ার, আবার অন্যদিকে বিষাদের সুর বাজে। প্রতিমা বিজর্সন কার্যক্রমের সূচনা

বক্তব্যে মন্দিরের পক্ষ থেকে আহবায়ক কমিটির সভাপতি স্বপন দে বলেন , আধ্যাত্মিক গ্রাম মছলন্দপুর হিন্দুপাড়া। ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সুদীর্ঘকাল থেকে এই অঞ্চলের মানুষ এক অন্যের ধর্মীয় উৎসবে অংশ গ্রহণ করে আনন্দ ভাগাভাগি করে উৎসবের সর্বাঙ্গীন সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেন। মধুখালী উপজেলা সহ এ অঞ্চলের সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। মন্দিরের পক্ষ থেকে আহবায়ক কমিটির সভাপতি স্বপন দে সভাপতিত্বে দুলাল কুমার মিত্র, সুবোল দত্ত, কার্ত্তিক মিত্র, অসীম দাস, বিকাশ দাস সহ ১৭ সদস্য বিশিষ্ঠ উপদেষ্ঠা মন্ডলীর দ্বারা শারদীয় দূর্গাপূজা পরিচালিত সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়। তারা বলেন বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও অনুষ্ঠান পালন করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মছলন্দপুর আউলিয়া গোস্মামী আশ্রম মন্দিরে উপস্থিত হয়ে পূজা পরিদর্শন করেন ফরিদপুর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটি সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, মধুখালী থানা অফিসার ইনচার্জ এস,এম নুরুজ্জামান সহ পুলিশগন, জেলা জজ শিমুল কুমার বিশ^াস, মধুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম, কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান, কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ বশীর উদ্দিন, সাংবাদিক সহিদুল ইসলাম, মধুখালী উপজেলা বিএনপি অন্যতম সদস্য হাবিবুর রহমান মিয়া, মধুখালী উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ন আহবায়ক ফরিদুল ইসলাম , বৈদ্যানাথ দাস, রাকেশ মল্লিক, নয়ন বিশ^াস, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের মধুখালী উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ। পরিশেষে সুন্দর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দূর্গাপূজা শেষ হয়। সার্বিক নিয়ন্ত্রনে ছিলেন মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামনুন আহম্মেদ অনীক প্রমুখ।