১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি রোজঃ শনিবার
ডুমাইন

প্রভাবশালীর সাথে জমি কিনে বিপাকে অসহায় পরিবার

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের এক অসহায় পরিবারের ঝর্না বেগম ও তার ভাসুরের ছেলে রজব আলী একই গ্রামের হাজী মতিয়ার রহমান মোল্যার স্ত্রী তাহেরা বেগম এর নিজের ও কেনা আবুল কাশেম নিকট থেকে (২৪+১৮) দুই দাগে ৪২ শতাংশ জমি কিনে বিপাকে পড়েছেন। ঝর্না ও রজব আলীর কেনা জমির সাথে এক প্রভাবশালী পরিবারেরা জমির মালিক হওয়ায় তাকে সেই জমিতে বাড়ি নির্মাণে বিভিন্নভাবে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য আদালতে একাধিক মামলা করে কাজ বন্ধ করিয়ে রেখেছেন রেজওয়ানুল ইসলাম নামে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাচী ঝর্না ও ভাসুরের ছেলে রজব আলী তার পরিবারের সদস্যরা অসহায় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছেন না। আর ভয়ে এলাকাবাসীও প্রকাশ্যে প্রভাবশালী পরিবারটির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেন না। এ নিয়ে প্রভাবশালী পরিবারটির এক সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে তিনি নিজেকে স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন এবং এলাকার লোকজন তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন মাঠপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত জয়নাল আবেদীন এর স্ত্রী ঝর্না বেগম ও মৃতঃ হামিদ শেখের ছেলে রজব আলী শেখ ১৯-০৫-১৯৯৬ সালের দিকে একই গ্রামের আবুল কাশেম এর নিকট থেকে ৬৫৮ নং খতিয়ানে ৪৪৬৪ নং দাগে ৪২শতাংশ জমি কিনে এর মধ্যে ২৪ শতাংশ এবং ৩৬৪৭ নং খতিয়ানে ৪৫৩৮নং দাগে ২৮শতাংশ জমির মধ্যে ১৮শতাংশ সহ দুই দাগে মোট ৪২শতাংশ জমি তাহেরা বেগম এর কাছ থেকে ক্রয় করেন। পরে কেনা সম্পত্তি ভোগ দখলে গিয়ে বসতবাড়ি করার উদ্দেশ্যে নিচু জমিটি মাটি ও বালি দিয়ে ভরাট করেন ঘর তুলে বসবাস করার জন্য ঝর্না বেগম ও রজব আলী । কিন্তু ওই জমির দাগের বাকী অংশের স্থানীয় প্রভাবশালী রেজওয়ানুল ইসলাম ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের। ঝর্না ও রজবের কেনা জমিটি তারা কিনতে চেয়েছিলেন। তবে ঝর্না বেগম তার ছেলে মেয়ে নিয়ে ও রজব আলী স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে বসত বাড়ির জন্য জমিটি কিনে নেওয়ায় রেজওয়ানুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। ভুক্তভোগী ঝর্না বেগমের অভিযোগ, বার বার মামলা দিয়ে তাকে ও তার ভাশুরের ছেলে রজব আলীকে হয়রানি করা হচ্ছে আবার এরা বাড়িতেও থাকতে পারছেনা আতœীয় স্বজনের বাড়ী থাকছে। এছাড়া জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে থানায় অভিযোগ করে বাঁধা দেন রেজওয়ানুল ইসলাম ও তার লোকজন। এতে ভয়ে এবং নিরুপায় হয়ে ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছেন তিনি। আর ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করছে কাবিল হোসেন। তিনি জানান, জমিটি কেনার পর বিভিন্নভাবে ওই জমি তার থেকে পাওয়ার জন্য টাকা আমানত করে কোর্টে মামলা দিয়েছেন রেজওয়ানুল ইসলাম। এতে রাজি না হওয়ায় হুমকি এবং চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। এই ভাবে কোর্টে মামলা চলার কারনে আমানত মামলায় হেরে যায়। তবে তাদের এই জমি ছাড়া বাড়ী করার আর কোন জমি নাই বলে জানা যায় । তাছাড়া তারা এই জমিতে প্রায় ২৮বছর বাড়ী করে আছেন কাবিল শেখ। এখন সংসার বড় হয়েছে ঘরবাড়ী করার বিশেষ প্রয়োজন । তখন পাশে ঘর বাড়ী করতে গেলে বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও মামলা মোকর্দমা ভোগান্তি আর ভোগান্তি। রেজওয়ানুল ইসলামের সাথে জমি বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেও স্বীকার করেন- ক্রয়সূত্রে জমিটির মালিক ঝর্না বেগম ও রজব আলী । তবে তাদের একই দাগের জমি হওয়ায় রেজওয়ানুল জমিটি কিনতে নিষেধ করেছেন তাদের । কিন্তু ঝর্না ও রজব আলী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিটি কিনে নেন। তারা (ভূক্তভোগী) ওই জমির উপর বসবাসের ঘরবাড়ী বানাতে চেয়েছিলেন। তাই আদালতে ও থানায় মামলা করেছেন রেজওয়ানুল ইসলাম বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবারের। পরিশেষে সামাজিক ও মানবিক দৃষ্ঠিতে তারা গরীব মানুষ বিধায় তাদের এই ৪২শতাংশ জমিই তাদের শেষ সম্বল। তাই তারা যাতে অন্যান্য দাগের ১৮শতাংশ জমি এই বাড়ীর দাগের ২৪শতাংশ জমি বুঝে পেয়ে বসতবাড়ী স্থাপন করে সুখে শান্তিতে পরিবার বর্গ নিয়ে বসবাস করতে পারি তাহার সুযোগ দানে গ্রামবাসী এই আইনশৃংখলা বাহিনী সহ বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিচারক গরীব অসহায় পরিবারের প্রতি সদয় মর্জি হয়। এই আশা সবার নিকট ব্যক্ত করেন ।