৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শনিবার
কামারখালী

জমি নিয়ে বিরোধে গাছের সঙ্গে শত্রুতা

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের চরগয়েশপুর শরীকের জমিকে নিজের দাবি করে সেখানে লাগানো বেশ কিছু মেহগনি চারাগাছ ও ১টি কদবেল চারা গাছ কেটে ফেলেছে এক প্রভাবশালী অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর লোক। বুধবার দুপুরে উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের চরগয়েশপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের বিধবা মর্জিনা বেগম এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা যায় বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে গাছ কাটার ঘটনার সত্যতা মেলে। এ সময় অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম নান্নু মোল্যা বলেন, ‘আমার জায়গার ১১টি মেহগনি গাছ আমি কেটেছি এতে কার কী?’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জমি ওদের হলে আমি গাছ কাটার জরিমানা দিব।’ অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে বুধবার দুপুরে শরীকের কেনা সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্তরা রামদা দিয়ে মারতে যান।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের ৪৪ বছরের কেনা ৬শতাংশ জমির মধ্যে লাগানো বেশ কিছু মেহগনি গাছের চারা কেটে নেন। ভ‚ক্তভোগী বিধবা মর্জিনা বেগম বলেন আমার স্বামী মৃতঃ আক্কাচ্চ আলী মোল্যার কবর দেওয়া হয়েছে এই জমিতে। তাই আমার ছেলেরা এই জমি গ্রামের সবার জন্য কবরস্থানের নামে দান করবে। তাছাড়া অভিযুক্তর চাচাতো ভাই সামাদ মোল্যা বলেন আমি দুইজনের দ্বিধা দ্বন্ধের বিরোধ ঠেকাইয়া দেয়। পরে তিনি চলে গেলে আবার কাটা গাছ নিয়ে ঝামেল্ াকরে অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম মোল্যা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হাতে থাকা রাম দা নিয়ে হুমকি দেয়। এ সময় ভূক্তভোগী পরিবারের বধিবা মর্জিনার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে তাঁরা পালিয়ে যান। তাছাড়া গ্রামবাসীবাসীরা জানান আমিরুল ইসলাম নান্নু র্আমরি চাকুরী করে বিগত ২বছর আগে অবসরে এসে শরীকের সাথে জমি-জমা ঘরবাড়ী এবং রাস্তা ও পারিবারিক কবর নিয়ে শরীকের মধ্যে ঝামেলা করছে ।

এ বিষয়ে গ্রামের কোন লোক কিছু বললে তিনি কারও কথা রাখেন না। এ বিষয়ে আরও জানা যায় ভূক্তভোগী মর্জিনা বেগমের দুইছেলে চাকুরীর সুবাদে বাইরে থাকার দরুন বিধবা মর্জিনা’র ছোট বেটার বউ নিয়ে বাড়ী থাকার দরুন নিরুপায় হয়ে ভয়ে সুষ্ট বিচারের আশায় বুধবার থানায় গিয়ে বিবাদীগনের নামে লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে মধুখালী থানার সহকারী পরিদর্শক (এস.আই) সান্টু দেব বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবো। দুই পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে । পাশাপাশি জমির কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন নিয়ে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর শেখ বলেন, বাদী-বিবাদীর জমি-জমা সংক্রান্ত ঝামেলা নিয়ে ওদের বাপ-চাচারা বেচে থাকাকালীন অনেকবার ঝামেলা মীমাংসার জন্য বসা হয়েছে । কিন্তু বর্তমান শরীকের মধ্যে নতুন করে জমি-জমা সংক্রান্ত ও জমির সীমানার মধ্যে গাছ কাটা নিয়ে আমি কিছুই জানি না তবে দুইপক্ষ বর্তমান বিরোধের কথা জানালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমি আবারও চেষ্টা করব।’