২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ মঙ্গলবার
ডুমাইন

বনগ্রামে এখনও কাঁচা রাস্তা, ভোগান্তিতে জনগণ বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাদা জন-দুর্ভোগ চরমে

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
গ্রামে ৩ কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় এই গ্রামের অবিবাহিত মেয়েদের বর্ষাকালে বিবাহ হয় না। কাচা রাস্তার কারনে বর্ষা মৌসমে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় অন্তস্বত্তা মা ও স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীসহ এই অঞ্চলের জনসাধারনের। বনগ্রামের রাস্তা পাকাকরন তো দুরের কথা মাটি দ্বারা প্রয়োজনীয় সংস্কার করার অভাবে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের একেবারেই অযোগ্য থাকে। শুষ্ক মৌসুমেও কাদা শুকিয়ে থাকার কারনে চলাচল সহজতর হয়না তাই রাস্তা কারনে অভিশপ্ত জীবন যাপন করতে হচ্ছে এই জনপদের বাসিন্দাদেরকে। মাত্র ৩ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরনের অভাবে বর্ষার মৌসুমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে যায় ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের বনগ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন কোন সংস্কার না করায় এই কাচা রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। রাস্তার মাটি এঁটেল হওয়ায় এবং ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার চলাচল করায় পায়ে হেঁটে চলাচল প্রায় সম্ভব হয়ে ওঠেছে এই রাস্তা দিয়ে। বর্তমানে এই রাস্তায় স্থান ভেদে জাগায় জাগায় কাদার গভীরতা আছে। একটি বেসরকারী প্রাইমারী স্কুল ব্যতিত এই গ্রামে কোন মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই সেটাও কাচা রাস্তা সংলগ্ন। শুধু কাদার কারনে ইচ্ছা থাকলেও পার্শবর্তী স্কুলে বা কলেজে যেতে পারছে না এই গ্রামের ছাত্র ছাত্রীরা তাই বাধ্য হয়েই গ্রামের বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। এই স্কুলের সামনেও হাঁটু সমান কাদা থাকার কারনে কাদা মাড়িয়ে জুতা হাতে করে স্কুলে আসতে হয় তাই বর্ষার মৌসুমে ছাত্রীরা একেবারেই ক্লাসে আসে না বলে জানায় স্কুলের শিক্ষরা।

গ্রাম থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী তিন কিলোমিটার দুরে পাকা রাস্তা সংলগ্ন নরকোনা আঃ রহমান নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সেখানে এই গ্রামের দুই একজন ছাত্র ভর্তি হয় বর্ষার মৌসুমে তাদের ক্লাস করা সম্ভব হয়না। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানায় রাস্তায় অতিরিক্ত কাদার কারনে ছাত্র ছাত্রীরা আসতে পারে না দুই একজন যা আসে তারা লুঙ্গি পরে আসে তবে ছাত্রীরা একেবারেই আসতে পারে না। বর্ষার মৌসুমে মাত্রাতিরিক্ত কাদার কারনে কোন ধরনের যানবাহনে এই রাস্তায় চলাচল সম্ভব নয়। তাই কোন আত্মীয় স্বজন এই গ্রামে আসতে চায় না। শুধু কাদার কারনে অনেকে এই গ্রামে ছেলেমেয়ে বিয়ে দিতে চায় না। । গভীর রাতে প্রসব বেদনা ওঠলে রাস্তায় কাদার কারণে যানবাহন না থাকায় কাধে করে কাদা পার করে নিয়ে যেতে দুঃখের সীমা থাকে না। তাছাড়া গর্ভবতী মা ও ভ‚মিষ্ট শিশুদের নিয়ে ডাক্তার বাড়ী যাওয়ার সময় রাস্তায় তো অনেক কাদা এর জন্য চলাচল করা যায় না, একজন কৃষক জানায় এই রাস্তার উভয় পাশে বিল। যার কারনে আমরা পাট চাষ ভালোভাবে করতে পারি না এই রাস্তার কাদার কারনে। এই রাস্তা দিয়ে কোন অবস্থাতেই পাট বহন করা সম্ভব নয় তাই আমাদের গ্রামের কোন চাষী পাট চাষ ভালোভাবে করতে পারে না, পাটের মৌসুমে জমি পতিত পরে থাকে। এই রাস্তা সংস্কার এবং পাকাকরনের ব্যাপারে মেগচামী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ সাবির উদ্দিন সাব্বির বলেন যে কোন কারনেই হোক রাস্তাটি করা সম্ভব হয়নি তবে আশা করি এই অর্থ বছরের মধ্যে মাননীয় এমপি’র সহযোগীতার রাস্তাটি পাকা করা সম্ভব না হলে ইটের এইচবিবি রাস্তা মেরামত করার ব্যবস্থা করা হবে।