মধুখালীতে কুকুরের উপদ্রবে আতঙ্কে মানুষ

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজার, মধুখালী বাজার, বাগাট বাজার , ডুমাইন বাজার সহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে, রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষ করে মাংসপট্টি ও ডাস্টবিন এলাকায় এসব কুকুরের উপদ্রব বেশি। আর এসব স্থান দিয়ে যাতায়াতই হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। উপজেলা ও ইউনিয়নে প্রায়ই কুকুরের কামড়ে লোকজন জখম হয়। কিন্তু মধুখালী পৌরসভা ও উপজেলায় জলাতঙ্কের প্রতিষেধক ইনজেকশন নেই। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন অলিগলিতে সকাল থেকেই ঘুরে বেড়ায় কুকুরের দল। বাজারের ক্রেতাদের ক্রয়কৃত খাদ্যসামগ্রী কেড়ে নিতে কুকুরের হামলায় অনেক পথচারী আহত হচ্ছে। এমনকি ছাত্র-ছাত্রী, একাকী কোনো পথচারী কিংবা অটোভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীকে কুকুরের দল তাড়া করে কামড়ানোর চেষ্টাও করছে। যদি কোনো পাড়ায় কোনো অনুষ্ঠান থাকে তাহলে তো কথায় নেই! কুকুরদের দাপাদাপিতে আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা চরম আতঙ্কে ভোগেন। আড়পাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ মিরাজুল ইসলাম বলেন, একটু রাত বাড়ার পরই গ্রামে শুরু হয় কুকুরের দাপাদাপি। সাইকেল, মোটরসাইকেল দেখলে দল বেঁধে তেড়ে আসে কুকুর।
কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা এ পাড়ায় অনেক ঘটেছে তাছাড়া তিনি নিজেও আক্রমনের শিকার হয়েছেন। একই এলাকার আড়পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি রুহুল আমিন মোল্যা বলেন, ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় প্রায়ই কুকুরের উৎপাতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। আড়পাড়া ইউনিয়নের সচিব ইকবাল হোসেন বলেন, মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত ভাবে জানালে একটি বেওয়ারিশ কুকুর থেকে রেহাই পাওয়ার ব্যবস্থা পাওয়া যাবে। মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঃ সালাম মিয়া বলেন, প্রতিদিনই দু-একজন রোগী ভ্যাকসিন নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। কুকুরের কামড়ে মরন ব্যাধি জলাতঙ্ক রোগ হয়। যার চিকিৎসা ব্যয়বহুল। কুকুরের কামড়ে ভ্যাকসিন না নিয়ে অপচিকিৎসা করলে মৃত্যু অনিবার্য। মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন নাই । আগামী বছর পাওয়া গেলে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। বিকল্প হিসেবে অল্প সময়ে মাগুরা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে তা পাওয়া যায়।