মধুখালীতে মাদ্রাসা শিক্ষিকাকে ধর্ষণ-চেষ্টার অভিযোগ, ন্যায় বিচারের দাবীতে ধর্ষকের নামে কোর্টে মামলা

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা কামারখালী ইউনিয়নের নাওড়াপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক মাদ্রাসা শিক্ষিকাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মাদ্রাসা শিক্ষিকা (২২) একই ইউনিয়নের ও একই গ্রামের আলমগীর মোল্যা ওরফে মোকে ও আইয়ব হোসেন মোল্যাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে (২০০০এর ৯(৪) (খ) তৎসহ ৩২৩/৫০৬পেনাল কোড-১৮৬০)ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৪ , তাং-১২-০৭-২০২৩ইং । লম্পট আলমগীর মোল্যা (৪০) মধুখালী উপজেলার নাওড়াপাড়া গ্রামের মৃতঃ কুদ্দুস মোল্যার ছেলে ও সহযোগী আইউব মোল্যা (৪৫) মৃতঃ ইদ্রিস আলী মোল্যার ছেলে। এরা দু-জনেই বিবাহিত এদের স্ত্রী এবং ছেলে সন্তানাদি আছে। অভিযোগ ভিত্তিতে ও বাদীর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ওই শিক্ষিকা মুন্সীগঞ্জ জেলা মহিলা মাদ্রাসা শিক্ষকতা শুরু করেন। পবিত্র ঈদুল আযহা’র ছুটিতে মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের নাওড়া পাড়া গ্রামের বাড়ীতে অবস্থান করেন।
গত মঙ্গলবার (১১ই জুলাই-২৩) ঘটনার দিন বেলা ১.৩০ মিনিটের সময় শিক্ষিকা নিজের গ্রামের বাড়ী নাওড়াপাড়া টিউবয়েল এর গোসল খানায় গোসল করতে ছিল এমন সময় লম্পট আলমগীর মোল্যা(৪০) আমার উপর হামলা করে এবং আমাকে ধর্ষন করার জন্য আমার সাথে ধস্তাধস্তি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শকাতর করে এবং পরনের কাপড় খুলার চেষ্টা করে। আমার শোর চিৎকারে আমার মা মাঠ থেকে কলের উপর ছুটে আসলে আমার মাকে লাঠি সোটা দিয়ে মেরে বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করে। এ ছাড়া আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ও মাকে মারধর করে। এক পর্যায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাড়ির সাথে সহযোগী আইউব মোল্যাকে ডেকে এনে আমার ধর্ষনে বাধা পেয়ে আমাকে ধর্ষন না করতে না পেরে দুইজনে মিলে আমার মাকে বেধড়ক মেরে চলিয়া যাওয়ার সময় আমার ও আমার মাকে জীবন নাশের হুমকি দেয় ।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার আতœ চিৎকারে আশেপাশে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে এবং মাকে চিকিৎসার জন্য মধুখালী সরকারী হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বাদী হয়ে ন্যায় বিচারের দাবীতে মধুখালী থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মধুখালী থানার অফিসার ইনর্চাজ মোঃ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার (১২-০৭-২০২৩) ইং আনোয়ার হোসেন মোল্যা ওরফে মোকে ও আইয়ুব হোসেন মোল্যা এর আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে আইউব মোল্যা গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরন করা হয়েছিল।