১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শুক্রবার
কামারখালী

মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মছলন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের নানাবিধ সমস্যা

মধুখালী প্রতিনিধি ঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মছলন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা, পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। কিন্তু সংস্কারের অভাবে ক্লিনিকটির কার্যক্রম নানা সমস্যায় জর্জরিত। রবিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ক্লিনিকটি চারিদিকে খোলা মাঠ । এই ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা এবং কর্মীদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা থেকে নেমে আসা রাস্তাঘাট না থাকায় ঠিকমত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। তাছাড়া ভবনের সমস্যা থাকার কারনে পানির সংকট ও ছাদ থেকে পানি চুঁয়ে পড়া সম্ভাবনা ইত্যাদি ঝুঁকিতেই চলছে এই ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা। মছলন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে নারী, শিশু সহ গড়ে প্রতিদিন ৫০-৫৫ জন রোগী আসেন সেবা নিতে। তিনি ( সিএইচসিপি শারমিন আক্তার) নিষ্ঠা ও সততার সহিত নিরলস ভাবে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ক্লিনিকে আসা রোগীদের সেবা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু রাস্তা না থাকার কারণে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেবা নিতে আসা শাহিনা বেগম নামে এক রোগী বলেন, ‘ আমার বাড়ি থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনেক দূরে হওয়ায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে এখান থেকে সেবা নিতে বাধ্য হই। কিন্তু এই ক্লিনিকের রাস্তা না থাকায় রাস্তা থেকে নেমে ক্লিনিকে আসা -যাওয়া করা চরম সমস্যা। এ ছাড়া সর্ব এলাকার রোগীরা জানান, এখানে এসে মাঝে মাঝে আমার বাচ্চারা পানি খেতে চাইলে পাওয়া যায় না কারণ এখানে বিশুদ্ধ পানির সংকট এটা যদি আধুনিক করা হয় তাহলে আমাদের ভোগান্তির অবসান হবে।’ এ বিষয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মোছাঃ শারমিন বেগম বলেন, এই ক্লিনিকে প্রায় ১২ বছর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের অবস্থা খুব খারাপ তাছাড়া ছাদ চটে ভেঙ্গে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার সম্ভাবনা আছে । এর ফলে অনেক চিকিৎসা সামগ্রী ও ঔষধপত্রসহ আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া ক্লিনিকটির চারপাশে পরিস্কার করে বাউন্ডারী করা অতিব জরুরী। তিনি আরো বলেন, ক্লিনিকটির সামনের জায়গাটি নিচু হওয়ায় ভারী বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। ফলে এ ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হন। ৬নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসীর রোগীরা বলেন, মছলন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে নেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং রাস্তার যে বেহাল দশা তাতে করে সেবা গ্রহনকারীর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই যে, অনতিবিলম্বে সেবার মান যাতে উন্নত হয় সেই ব্যবস্থা নিবেন। এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলার টি.এস.ও এবং কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান এবং ক্লিনিকের সভাপতি বর্তমান ইউ.পি. সদস্য আশরাফ মোল্যা এর নিকট এই ক্লিনিকের সমস্যা গুলো দ্রæত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবী জানান।