২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ মঙ্গলবার
কামারখালী

গড়াই ও মধুমতি নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে ফুলবাড়ী অসহায় গরীব রজব মোল্যা’র বাড়ী

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গড়াই ও মধুমতি নদীর ভাঙ্গন তীব্র হচ্ছে। পানির স্তর যতোই নিচে নামছে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ততই প্রকট হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর ঝুঁকিতে পড়েছে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, মসজিদ সহ নানা স্থাপনা। ফলে ভাঙন প্রবণ গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙন রোধে দ্রæত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ী এর মধ্যে চরম ঝুঁকিতে আছে রজব আলীর মোল্যা’র বাড়ী অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। অবিলম্বে বøক বসানো প্রয়োজন। সরেজমিনে দেখা গেছে, গড়াই ও মধুমতি ধারে ফুলবাড়ী গ্রামের জিও ব্যাগ দিয়ে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙনের ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে রজব আলী মোল্যা’র বাড়ী সহ বেশ কয়েকটি বাড়ী। জিও ব্যাগের বøক ভেঙে হুমকির মুখে পড়েছে রজব আলীর পরিবার। ইতোমধ্যে ফুলবাড়ী গ্রামের বেশ কিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে আরও ঝুঁকিতে আছে সাবেক মহিলা মেম্বরের বাড়ী সহ কয়েকটি বাড়ী। কথা হয় গড়াই ও মধুমতি নদীর পারের ফুলবাড়ী গ্রামের রজব আলী মোল্যা’র স্ত্রী শুকুরন বেগম সাথে।

তিনি বলেন দিনমজুর স্বামী সহ তার পাঁচ সদস্যের পরিবার। মানুষের সাহায্য নিয়ে বসতঘর নির্মাণ করেন। নদীর পানির স্তর নিচে নামলে শুরু হয় ভাঙন। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বড় বড় ফাটা আর ভাঙা । বাড়ির মায়ায় ফাটা দেখে ডর নিয়ে ঘরে আছি। এ রকম যদি গাং ভাঙ্গতে থাকলে আমার ঘর ভেঙ্গে গাঙ্গে চলে যাবে । তাছাড়া আমার সব নদীতে চলে গেলে আমরা থাকবো কই? স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: আশরাফ মোল্যা ও গ্রামের সম্মানিত ব্যক্তি ও সমাজসেবক হাজী নাইম মোল্যা বলেন, এলাকার মানুষ হতদরিদ্র। এ পরিবারের মাথা গোঁজার স্থানটুকু বাঁচানো যাচ্ছে না। অবিলম্বে বøক বসানো প্রয়োজন। আর সামনে বর্ষাকাল নদীর পানি বৃদ্ধিতে প্রবল ভাঙ্গন শুরু হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে । নদীর পানি প্রকট বৃদ্ধির হলে ভাঙ্গনে ফুলবাড়ী গ্রাম গড়াই ও মধুমতি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী বলেন, গড়াই ও মধুমতি নদীর তীরবর্তী কামারখালী, রাজধরপুর, ফুলবাড়ী, গন্ধখালী, নাওড়াপাড়া, দয়ারামপুর ও সালামতপুর গ্রামে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে না পারলে গ্রামগুলো বিলীন হওয়ার আশঙ্কা আছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়কে অবগত করেছি। আশা করি দ্রæততম সময়ে একটি ব্যবস্থা হবে। ফরিদপুর জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও কর্মকতারা বলেন, ভাঙ্গন কবলিত স্থান পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।