১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শুক্রবার
ডুমাইন

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউ.এন.ও,) এর ওপর গ্রামবাসীর হামলা, আহত ৭

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ.এন.ও) মো. আশিকুর রহমান চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মধুখালীর ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর চর পাড়া গ্রামের খাস জমি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর হামলা চালায় গ্রামবাসী। এ সময় ইউ.এন.ওর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে ইউএনও ও তাঁর দেহরক্ষী সহ ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ইউএনও মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী ও আইয়ুব নামে এক ব্যক্তিকে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতরা হলেন, ইউএনও মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী, তার গাড়ি চালক মো. সুমন শেখ, অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম, দেহরক্ষী জমিরউদ্দিন, ইমরান হোসেন, আহসান হাবিব ও আইয়ুব আলী। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন ।

জানা যায়, উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর চরপাড়া গ্রামে কয়েক একর খাস জমি এলাকার প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারিভাবে উদ্ধার করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা নিজস্ব জমি দাবি করে। বৃহস্পতিবার খাস জমিতে ঘর নির্মাণের জন্য রাখা মালামাল লুট এর ঘটনা দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিদর্শনে গেলে গ্রামবাসী তাঁর ওপর হামলা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর চরপাড়া গ্রামে খাস জমিতে ঘর নির্মাণের জন্য লেবারশেড ও মালামাল নিলে স্থানীয়রা লুট করে নিয়ে যায়। আমি সেখানে গেলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার ও আমার লোকজনের ওপর হামলা করে।’ আহতদের দেখতে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আসেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার। এ সময় তাঁর সঙ্গে এডিসি জেনারেল মো. ইয়াসিন কবীর, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম আরা উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক বলেন, ঘটনা যারাই ঘটাক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। যেখানে যেটুকু খাস জমি আছে উদ্ধার করে ভূমিহীনদের ঘর করে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি একটি সালিশে ছিলাম ইউ.এনও স্যারের মোবাইল পেয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা করি।’ এই পরিস্থিতির সংবাদ পেয়ে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান(পিপিএম সেবা) , ফরিদপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ , মধুখালী সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কর, মধুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল হক বকু, মধুখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মুরাদুজ্জামান মুরাদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোর্শেদা আক্তার মিনা সহ এন.এস.আই. ডিজি.এফ.আই, ডিবি এবং মধুখালী থানার এস.আই.সান্টু দেব সহ আরো এস.আই.এ.এস. আই সহ পুলিশ ফোর্স ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনেন। তবে পুলিশ সুপার বলেন হামলাকারীদের দ্রæত সনাক্ত করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে। অবস্থা শান্ত রয়েছে।