৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শনিবার
কামারখালী

প্রভাবশালী দখলদারদের কবলে কামারখালী ও আড়পাড়া ইউনিয়নের চন্দনা খাল বিলুপ্ত, ফলে কৃষক হাহাকার

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ও আড়পাড়া ইউনিয়নে দিন দিন জমির মুল্য বেড়ে যাওয়ায় দখলদাররা খাল দখলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কামারখালী ইউনিয়নের গড়াই ও মধুমতি নদী থেকে উঠে আসা চন্দনা খালটি কামারখালী বাজারের পুরাতন ফেরীঘাটের পূর্ব ও পশ্চিম এর সাথে চন্দনা খাল দিয়ে আড়পাড়া মাঠে ও হড়িনা খালে পানি ঢুকার এটিই একমাত্র প্রধান খাল। এক সময়ের খরস্রোত এই খালটি দখলদারদের কবলে পড়ে আজ মরা খালে আবার কোথাও নালায় পরিনত হয়েছে। জানা যায় এই খালে নৌকায় করে বাজারে আসা-যাওয়া, করাতকল ও গমের মিলে গম নেয়া, বাজারের মালামাল বহন সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা এ খালটি ব্যবহার করতো। কিন্তু এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। ফলে নদীর জোয়ারে খালে পানি ঢোকার ব্যবস্থা নাই । সব দিকে কামারখালী ও আড়পাড়া চন্দনা খাল ভরাট করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এ কারনে গ্রামের কোথাও আগুন লাগলেও পানির সংকট দেখা দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে পানির উৎস পাওয়া যায় না।

এছাড়া খালটি ও তার ছোট ছোট শাখা নালাগুলো ভরাট হওয়ায় সামন্য বৃষ্টি হলেই এ খালের আশপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সেই খাল ও নালা নানা কৌশলে দখলে নিলেও প্রভাবশালীরাদের ভয়ে সকলে চুপ থাকলেও সচেতন মহলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। খাল দখলে প্রভাবশালীরা জড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনও মুখ থুবড়ে রহস্যজনক ভুমিকায়, আরও উৎসাহী হচ্ছে দখলদাররা। এ সুযোগে খাল দখলদার মহলটি দিন দিন খাল দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে। আড়পাড়া ইউনিয়নে চন্দনা খাল মানুষেরা ঘর-বাড়ীর দখলে নিয়ে গেছে। ফলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রভাবশালীরা কামারখালী বাজারে একের পর এক পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আর কৃষক নদীর পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়ে আছে । এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যজিস্ট্রেট কামরুল আহসান তালুকদার পিএএ গত রবিবার ৩০শে জুলাই মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন কালে বলেন চন্দনা খাল সহ আশে পাশে যে সব প্রভাবশালী অথবা যে কেউ হোক যারা অবৈধ জমি-জমা ঘরবাড়ী, রাস্তাঘাট দখল করে আছে তাদেরকে স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে হবে নতুবা আইনের কাঠগড়ায় আসতে হবে। তিনি আরও বলেন কৃষকের পাট জাগের আধুনিক প্রযুক্তির পরিকল্পনার ব্যবস্থা করা হবে । যাতে পাটের জন্য হাহাকার করা না লাগে এবং মরা খাল খনন করা হবে। কারন মধুমতি ও গড়াই নদীতে পানি থাকলেও নদীর পানি মাঠে ও খালে এবং বিলে যাওয়ার ব্যবস্থা নাই। কারন খাল সমাজের বিত্তবান প্রভাবশালী ভরাট করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তাই স্থানীয় সচেতন লোকজন ও কৃষকগন দ্রæত এ খালটি উদ্ধার ও ব্যবহারের উপযোগীতা ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগীতা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করেন। পক্ষান্তরে গড়িয়াদহ খালটি খনন করা অতিব জরুরী । তাহলে আগামীতে কৃষক বাচবে বলে আশা করা যায়।