২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৫ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি রোজঃ বুধবার
কামারখালী

পা হারানো হাশেমের এখন ভরসা শুধুই প্রধানমন্ত্রী

কামারখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের নদীভাঙ্গন গ্রাম গয়েশপুর গ্রামে জন্ম মেধাবী ছাত্র হাশেম আলী শেখ । স্কুল জীবনে থেকে শুরু করে কলেজ জীবনে তার শিক্ষার মান খুবই ভালো। তিনি রাস্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ.পর্যন্ত লেখা পড়া শেষ করেছেন। কৃষি পরিবারে জন্ম । লেখা পড়ার মাঝে চাকুরী পাওয়ার আশায় দরখাস্ত ও পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বাবা আজিজার শেখ এর কৃষি কাজে সাহায্যে করার জন্য পাওয়ার ট্রিলার নিয়ে মাঠে জমি চাষ করতে গিয়ে ভাগ্যের নির্মম কি পরিহাস পাওয়ার ট্রিলারে চলে গেলো তার ডান পা। আল্লাহ’র কি অসীম মায়ার বরকতে জীবনে বেচেঁ আছেন পা কাটা অবস্থায়। রাজনীতিতে তিনি -বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মুজিব আদর্শের একজন লড়্াকু সৈনিক। তাই তার জীবনের আফসোস আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় । হাশেম এক পা ছাড়াই চলছেন এই দীর্ঘ সময়ে। বাইরে বের হন ২টা ক্রেচ নিয়ে, খুব কষ্ট করে চলাচল করতে হয় তাকে। অথচ ১-২ লাখ টাকার সংকুলান হলেই লাগাতে পারেন একটা উন্নত মানের কৃত্রিম পা।

এতে কিছুটা হলেও স্বাভাবিক চলাফেরায় ফিরতে পারেন হাশেম । কথা বলতে বলতে আবেগী হয়ে কাঁদতে কাঁদতে জানান, আমার জীবনে অনেক আশা ছিল আমি সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হবো তারপর দলের জন্য কাজ করবো এবং ভালো চাকুরী করবো কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস পা হারিয়ে সব নিরাশা। পা হারালেও আমার মনোবল হারিয়ে যাইনি । আপনারাতো সবাই আছেন । তবে তার সর্বশেষ মনের আকুতি তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ-এর জন্য দীর্ঘদিন থেকে মনের মধ্যে জীবনের শেষ আশা । জানেনা কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি তার এই পূরন করবেন এই আশা নিয়ে গ্রামের বাড়ী গয়েশপুর গ্রামের ঘরের জানালা দিয়ে চেয়ে থাকেন দিনভর একটি কৃত্রিম পা ও সুন্দর একটি চাকুরীর জন্য । এই সংবাদ পেয়ে হাশেমের বাড়ী সাংবাদিক গেলে হাশেম কথা প্রসঙ্গে বলেন, ভাই আমি শিক্ষিত হয়ে পা হারিয়ে অনেক চাকুরীর দরখাস্ত করেছি আমি মেধা তালিকায় কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেলে বেতনের টাকা সব জমা করে ১-২ লাখ টাকা দিয়ে একটা ভালো কৃত্রিম পা লাগাবো। জীবনের সবকিছু হারিয়েছে এটাই তার স্বপ্ন এখন। যাতে মায়ের সামনে একটু স্বাভাবিক চলাচল করতে পারে, একটু নিজের হাতে সেবা করতে পারে। হাশেমের সাহস আর মনোবল তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এখনও সে প্রবল মানসিক শক্তি নিয়ে সারাদিন রাত কষ্ট করে যাচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে কৃত্রিম পা লাগিয়ে যতটুকু সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। সাথে ভালো একটা কর্মসংস্থান হলে বৃদ্ধ বাবা- মায়ের সেবা করা এবং পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো থাকা।

চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে তার পরিবার নগদ টাকাসহ জমি বিক্রি করে নিঃস্ব। কেউ এগিয়ে আসেনি হাশেমের উন্নত চিকিৎসার জন্য। শুধু এসেছেন বাংলােেদশ মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির ধর্ম বিষয়ক সদস্য ও নব নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মাদ আকরামুল করিম ও কামারখালী ইউনিয়নের বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু বক্কার মোল্যা(অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রাইমারী স্কুল)। এ প্রসঙ্গে হাশেমের বন্ধু ও একসময়ের সহকর্মীরা বলেন, আমরা চাই হাশেম আমাদের সাথে হাসিখুশি থাকবে, কিছুটা হলেও স্বাভাবিক চলাচল করতে পারবে। তার বাবার অঢেল সম্পদও নেই, চাকরি বা কর্ম করেই তাকে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। ১-২ লাখ টাকার একটা পায়ের জন্য কি হাশেমের প্রতিনিয়ত চোখের জল দেখতে থাকবো? বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেও একটা চাকরি করার অধিকার নেই তার। হাশেমের প্রতি ছাত্রলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের কি কোন দায়িত্ব নেই। তাকে একটা সুন্দর নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনের কোন ব্যবস্থা করতে পারি না আমরা। তার সহকর্মীদের বক্তব্য আরও বলেন , হাশেমের জন্য দলের নেতা বা এমপি-মন্ত্রীদের কাছে কোন প্রত্যাশা নেই। এখন শুধু আমাদের প্রত্যাশা আমাদের মমতাময়ী মা, ত্যাগী নির্যাতিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের একমাত্র আস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার কাছে। আশা করি তিনি হাশেমের জন্য কিছু করবেন। যোগাযোগ-০১৮৬৫১৫৯৬৪০