১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শুক্রবার
আড়পাড়া

মধুখালীতে বিষ প্রয়োগ করে ৩২ পাকি পেঁয়াজ বিনষ্ট

মধুখালী প্রতিনিধিঃ ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আড়পাড়া গ্রামের মোঃ হারেজ উদ্দীন শেখ ভিটের মাঠে নিজের ও আতœীয়ের ৩২পাকি জমিতে করেছিলেন পেঁয়াজ চাষ। ইতিমধ্যে ৮লক্ষ হাজার টাকা খরচ করেছেন। জমি থেকে পেঁয়াজ উঠলে অন্তত ২০ লাখ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি করতেন তারা। এতে তাদের লাভ হতো প্রায় ১২লাখ টাকা। বছর জুড়ে পরিবারের সদস্যের সংসার চালাতে নির্ভর করছিলেন পেয়াজ চাষের উপর। ফসল ভালো হওয়ায় তা বিক্রি করে লাভবান হবার স্বপ্ন ছিলো দু’চোখ জুড়ে। তবে বিষ প্রয়োগ করে তার স্বপ্নের ফসল নষ্ট করে দেয়ায় এখন দু’চোখ জুড়ে শুধুই অন্ধকার। তবে কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে আর পুলিশ বলছে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এবারের মৌসুমে মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের ভিটের মাঠে বিলের ৫৬ পাকি জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেন মোঃ হারেজ উদ্দীন ও তার ভাইয়ার ছেলে বাদশা মোল্যা মিলে ২জন । চাষ করা এসব জমিতে পেঁয়াজের ফলনও হয় ভালো।

তবে কয়েকদিন আগে রাতের আধারে অন্তত ৩২ পাকি জমিতে গোড়াপঁচা বিষ প্রয়োগ করে দূবৃত্তরা। এরপরই জমিতে শুরু হয় পেঁয়াজের গোড়াপঁচা। প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে জমির পেয়াজ। সারা বছর পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবে সেই চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। ফসল হারিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। ফলে জমির চাষাবাদকারী কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ঘটনার পরই মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মাহবুব ইলাহী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মোঃ হারেজ উদ্দীন শেখ মধুখালী থানায় অজ্ঞাত নামা একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মোঃ হারেজ উদ্দীন শেখ বলেন, আমি এবং আমার ভাইয়ার ছেলে বাদশা মোল্যা ৩২পাকি জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। পেয়াজ চাষ করতে আমাদের ইতিমধ্যে ৮লক্ষ টাকা খরচ করেছে। আর কয়েকদিন পর এসব পিঁয়াজ জমি থেকে উঠিয়ে বিক্রি করবো।

এরই মধ্যে কে কাহারা শত্রুতাবশত বিষ প্রয়োগ করে পেঁয়াজের ক্ষতি করলো। এতে আমরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হলাম। এখন আমাদের সরকারি সহায়তা না দিলে আমাদের সর্বশান্ত হতে হবে। আড়পাড়া ইউনিয়নের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা প্রল্লাদ কুমার রায় বলেন, বিষের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যদি আমাদেও অফিসে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের জন্য যদি সরকারি ভাবে অনুদান তাহলে পাবে। মধুখালী থানার ওসি ফকির মোঃ তাইজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মোঃ হারেজ উদ্দীন শেখ একটি অজ্ঞাতনামা অভিযোগ দায়ের করেছেন হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।