নেই পাবলিক টয়লেট, চরম অসুবিধায় কামারখালী বাজারের ব্যবসায়ীরা এবং ক্রেতা ও বিক্রেতা সহ বহিরাগতরা

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের কামারখালী এতো বড় বাজারে নেই পাবলিক টয়লেট, বেশি বিপাকে পড়েছে কামারখালী বাজারে ব্যবসায়ীরা এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বহিরাগত নারীরা এবং নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারী জনসাধারণকেও। কামারখালী বাজার একটি নাম করা রপ্তানী বাজার দিন দিন উন্নত বাজারে পরিনত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাজের সন্ধানে ও ব্যবসায়ীকে কাজে আসছে মানুষ এবং আশেপাশের চেয়ে বড় বাজার হওয়ায় গ্রামাঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে ছুটে আসে ঐতিহ্যবাহী কামারখালী হাট-বাজারে । কিন্তু চরম ব্যস্ত এ বাজারের মধ্যে নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক গণশৌচাগার। ফলে প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ব্যবসায়ী, কর্মমুখী ও পথ চলতি মানুষকে। এতে পুরুষেরা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে বা বিভিন্ন খোলা জায়গায় মূত্রত্যাগ করেন। অনেক জায়গায় মলত্যাগ করে ছিন্নমূলেরা। ফলে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ, সেই সঙ্গে বাড়ছে জনভোগান্তি। সরজমিনে দেখা যায়, কামারখালী বাজার হাইওয়ে সংলগ্ন একটি ব্যস্তময় বাজার। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন কর্মজীবী মানুষ ও ক্রেতারা। বাজারে একটি টয়লেট আছে সেটি পরিত্যক্ত আর একটি মহিলা মাকেটে। মহিলা মার্কেটে মহিলা ল্যাট্রিন আছে সেটিও তালাবদ্ধ এবং সীমাবদ্ধ লোকের জন্য আবার একটু দূরে কামারখালী বাজারে তিনটি মসজিদ আছে ,সেই মসজিদের ল্যাট্রিন গুলো মুসল্লদি জন্য নিদিষ্ট সময়ে খোলা থাকে বাকী সময়ে বন্ধ এবং মসজিদের তত্ত¡াবধানে চলে। সেখানে গেলে সিরিয়াল নিয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় লোক পাওয়া যায় না।
অনেকে দূর হওয়ায় বাজারের আরেক প্রান্তে থাকা লোকজন যেতে চায় না। পরিশেষে কামারখালী বাজারে বণিক সমিতির অধীনে পাবলিক টয়লেট নির্মিত হলেও সেটি এখন অকেজো ও পরিত্যক্ত। সেটিও এখন লোকবলের অভাবে বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষকে প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ সময় অনেক পথচারী বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ও মসজিদে টয়লেটে মলত্যাগ করেন। সেটাও আবার বন্ধ করে রেখেছেন। তাহলে বাজারের ব্যবসায়ীদের মাসিক পাহারা চাঁদা এবং সরকারের কর -খাজনা দেওয়ার পরও ব্যবসায়ীদের স্বাধীন একটি পাবলিক টয়লেট ও গোসল খানার ব্যবস্থা নাই। কামারখালী বাজারে টিন ব্যবসায়ী অবসর প্রাপ্ত সার্জেন্ট শওকত হোসেন বলেন, পাবলিক টয়লেট না থাকায় বাজারে আসা মানুষ রাস্তার পাশে মল-মূত্র ত্যাগ করে। এতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। দ্রæত সরকারিভাবে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা দরকার। কামারখালী বাজারে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদে কেনাকাটা করতে আসা আড়পাড়া ইউনিয়নের আলতাফ হোসেন বলেন, কামারখালী একটি বড় বাজার এখানে কোনো পাবলিক টয়লেট না থাকায় আমাদের খুব দুর্ভোগে পড়তে হয়। আমরা পুরুষ মানুষ তো কোনো না কোনোভাবে সারতে পারি, কিন্তু মহিলা ও বাচ্চাদের সমস্যা পোহাতে হয়। পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট না থাকায় নারীদের ভোগান্তি অবর্ণনীয়। কামারখালী বাজারের চা-বিক্রেতা জাহাঙ্গীর জানান, এত বড় এলাকা, কিন্তু সরকারি কোনো টয়লেট নেই। রাস্তার পাশে কিছু কিছু জায়গায় যেরকম দুর্গন্ধ, তাতে নাক চেপে চলাফেরা করতে হয়। কামারখালী বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বীরমক্তিযোদ্ধা আঃ সালাম মন্ডল বলেন, বণিক সমিতির অফিসের পাশে একটি টয়লেট ছিল সেটি এখন পরিত্যক্ত। বাজারে অনেক জায়গা আছে। এখানে একটি পাবলিক টয়লেট ও গোসল খানা খুবই জরুরি। এটি করলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হবে। কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান বলেন, বাজারের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের একটি পাবলিক টয়লেট ছিল, সেটি এখন পরিত্যক্ত। যেহেতু কামারখালী বাজার একটি নামকরা হাট-বাজার তাই এখানে উন্নত মানের একটি পাবলিক টয়লেট ও গোসলখানা জরুরি প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি। মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, কামারখালী হাট-বাজারের পাবলিক টয়লেটের সমস্যার বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জন্য আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।