২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি রোজঃ রবিবার
মধুখালী

মধুখালীতে জেলেদের ভ্যাসালে মাছ শিকারের হিরিক

মধুখালী প্রতিনিধিঃ


বর্ষার পানিতে এখন খাল-বিল, নদী-নালায় চড়ে বেড়াচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছের পোনা। কিছুদিনের মধ্যেই মাছগুলো বড় হবে। কিন্তু এরই মধ্যে এক শ্রেণীর মৎস্য শিকারি বেড় ও সুতি জাল, চায়না ধোয়ার এবং ভ্যাসাল দিয়ে অবাধে পোনামাছ নিধন করছেন। বেশির ভাগ মৎস্যজীবী দরিদ্র হওয়ায় রুটি রুজির বিকল্প উপায় না থাকায় এসব পোনামাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বিল এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাল-বিলে বর্ষার পানি প্রবেশের পর থেকেই মাছ শিকারের ধুম পড়ে গেছে। নদী থেকে খাল-বিলে পানি প্রবেশের পথেই বেড় ও সুতি জাল, চায়না ধোয়ার এবং ভ্যাসাল দিয়ে ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন করা হয়েছে। এখন চলছে পোনা মাছ নিধনের হিড়িক। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে এ মাছ শিকার। খুব সস্তায় গ্রামের হাট-বাজারে এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে।

সম্প্রতি মধুখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিলের পানি দ্রæত গতিতে নদীতে নামছে। পানি বের হওয়ার পথগুলোতে বসানো হয়েছে সুতি জাল, ভেসাল ও চায়না ধোয়ার । অন্যদিকে দুই নৌকা একসঙ্গে করে বেড় জাল দিয়ে পানি ছেঁকে তুলে আনা হচ্ছে ছোট-বড় সব মাছ। মধুখালী উপজেলার পশ্চিম আড়পাড়া রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রলাদ সরকার বলেন, খালে -বিলে মাছ নিধনের কোনো বিধিনিষেধ নেই। যত দিন পানি আছে, তত দিন মাছ নিধন চলবে। মৎস্য শিকারিদের কাছে বড় বা ছোট মাছ বলে কিছু নেই। মধুখালী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শিরীন শারমিন খাঁন বলেন মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এ বলা হয়েছে, নির্বিচারে পোনা মাছ ও প্রজননক্ষম মাছ নিধন মৎস্য সম্পদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়।

চাষের উদ্দেশ্য ব্যতীত কেউ প্রতিবছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর (আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি থেকে পৌষ মাসের মাঝামাঝি) পর্যন্ত ২৩ সেন্টিমিটারের (৯ ইঞ্চি) নিচে থাকা কাতলা, রুই, মৃগেল, কালবাউশ, ঘনিয়াসহ দেশি প্রজাতির মাছ নিধন করতে পারবে না। চাষের উদ্দেশ্যে মাছ ধরতেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। অন্যদিকে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা তার চেয়ে কম ফাঁসবিশিষ্ট জাল ব্যবহার করা যাবে না। আইন অমান্য করলে ১ মাস হতে সর্বোচ্চ ১ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। তিনি আরও বলেন মৎস্য শিকারিদের দাবি যৌক্তিক। তবে সব দিক বিবেচনা করেই মৎস্য সংরক্ষণ আইন করা হয়েছে। এরপরও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত আছে।