মধুখালীতে ১৪হাত লম্বা মহাবীর হনুমান পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
সনাতন ধর্মের পৌরাণিক কাহিনী মতে, চার যুগের অমরত্ব লাভ করা রাম ভক্ত হনুমান সনাতন ধর্মে সর্বত্র পূজ্য। ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ভারতে মহা ধুমধামের সাথে পৌরানিক দেবতা হিসেবে হনুমান বিগ্রহ তৈরী করে তা পূজার প্রচলন থাকলেও বাংলাদেশে মধুখালী উপজেলার কোথাও হনুমান পূজার একটা প্রচলন চোখে পড়ে না। তবে জানা মতে তিনদিন ব্যাপী ব্যাতিক্রমী এই হনুমান পূজা প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মছলন্দপুর হিন্দুপাড়া গ্রামে আউলিয়া গোস্বামী আশ্রমে প্রধান তত্ত¡াবধানে ও কামারখালী ইউনিয়নের মছলন্দপুর হিন্দু পাড়া ও অন্যান্য সুধীজনের আয়োজনে। ওই গ্রামের আউলিয়া গোস্বামী আশ্রমের একটি চারণ মাঠে সুদৃশ্য বৃহৎ প্যান্ডেলে ১৪ হাত উচ্চতার নির্মিত হনুমানের পূজা অনুষ্ঠিত হয় । এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সেখানে বসেছে তিন দিনের মেলা। মনোমুগ্ধকর সাজ ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে আশ্রম ও পূজা প্যান্ডেল। সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার সকল ধর্মের হাজার হাজার কৌতুহলী লোকজন মেলা, পূজা ও ধর্মীয় সম্পর্কে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন।
এমন আয়োজনে খুশি এলাকার ছোট-বড় সকলেই। পূজার কয়েকদিন আগে থেকেই প্রচারণার জন্য বিভিন্ন এলাকায় করা হয়েছিল মাইকিং। পূজা উদযাপন অনুপ্রেরনায় ও সার্বিক সহযোগীতায় এবং প্রধান ভূমিকায় অত্র -মন্দিরের সহ-সভাপতি, ভাষানতলা সার্বজনীন কালিমন্দির কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটি প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বপন দে জানান, মানুষে মানুষে স¤প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতেই তারা হনুমান পূজার আয়োজন করা হয়েছে এটা চলমান থাকবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রতীমা শিল্পী একই উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের দিপু পাল, বনমালী পাল,অসিত ও রিপন পাল গত এক মাস যাবত ১৪হাত উচ্চতার হনুমান বা বজ্রাংবলির বিগ্রহটি নির্মান করেছেন। পূজা পরিচালনা ও আর্থিক সহযোগীতায় ছিলেন মছলন্দপুর ও বাগিচাপাড়া হিন্দু সমাজের ভক্তবৃন্দ। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ফরিদপুর -১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেন বুলবুল, সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আঃ রহমান, মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহ্মুদা বেগম কৃকজেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মির্জা আহসানুজ্জামান আজাউল, কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ও তার পরিষদ বগ, কামারখালী বাজার শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ্র নাট মন্দিরের
সভাপতি হরিদাস শিকদার, সাধারন সম্পাদক দীপক সাহা, শ্রী, শ্রী আইলিয়া গোস্বামী আশ্রমের সভাপতি দুলাল কুমার মিত্র, সাধারন সম্পাদক সুবল দত্ত, মাঝবাড়ি মহা শ^শান কালি মন্দির কমিটির সভাপতি অনিল কুমার মালো, সাধারন সম্পাদক অতুল কুমার দাস, ভাষান তলা কালিমন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক নয়ন বিশ^াস, দাস পাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি প্রদ্যুৎ দত্ত, সাধারন সম্পাদক লিটন দাস, মছলন্দপুর ঠাকুরপাড়া সার্বজনীন মন্দিরের সভাপতি আশিষ বিশ^াস, সাধারন সম্পাদক সোহাগ দত্ত, কামারখালী রাজধরপুর ঠাকুরপাড়া মন্দিরের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা অরুন কুমার সরকার, সাধারন সম্পাদক রতন সরকার, মছলন্দপুর দাদা ও দিদিদের নিয়ে গঠিত সনাতনী পরিবারবর্গ সহ বিশ^জিৎ কুমার দত্ত সহ আরো অনেকে । পরিশেষে মতুয়া গোষ্টির গুনকীর্তন শেষে ইফতারী ও ভোজের মাধ্যমে এবং মহা প্রসাদ বিতরন অন্তে সুষ্ট ও সুন্দর এবং আনন্দ পরিবেশের মাধ্যমে প্রতীমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মহাবীর হনুমান পূজা শনিবার শেষ করা হয়।