মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কামারখালী ইউনিয়নের চরাঞ্চালের মানুষের ভাগ্যে উন্নয়নের দাবী

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুমতি নদী বেষ্টিত কামারখালী ইউনিয়নের জারজরনগর , চরকসুন্দি, গয়েশপুর, বকশিপুর, বিজয়নগর, শ্রীমন্তকান্দি এবং চরগয়েশপুর, চরপুখুরিয়া গ্রাম সহ আরও কয়েকটি গ্রামের চারদিকে নদী হওয়ায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নদীপথে নৌকা আর পানি , কাদা , ধুলাবালি সহ কাচা রাস্তা । মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যার সময় নদীপথ ও বেহাল দশায় কাচা রাস্তায় চলাচল করতে হয় । এই চরাঞ্চলে যেতে নদীপথ ছাড়া বিকল্প পথ আছে কাচা রাস্তা আর কাচা রাস্তা। তৈরী হয়নি কোন ইটের রাস্তা, বা পাকা রাস্তা । শুধু দয়ারামপুর প্রাইমারী স্কুল থেকে চরকসুন্দি পর্যন্ত ইটের রাস্তা হয়েছে এ ছাড়া পৌছায়নি নাগরিক সুবিধা, একদিকে নেই তেমন কোনও রাস্তা, নেই তেমন যানবাহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা সহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষ। তারা বুক ভরা আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে মাননীয় মৎস্য ও প্রানী সম্পদমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান এম.পি. ‘র মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র কাছে কামারখালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে উন্নয়নের দাবী, গয়েশপুর খেওয়াঘাট পর্যন্ত পাকা রাস্তা, খেওয়াঘাট থেকে চরগয়েশপুর খেওয়াঘাট পর্যন্ত নদীতে ব্রীজ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা হয়ে চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে উন্নয়নের ব্যবস্থা কবে হয়। ইউনিয়নের মধুমতি নদের বুকে জেগে ওঠা সহ চরাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের ১০০০ পরিবারের প্রায় ৪হাজারের বেশি মানুষের বসবাস।
নেই ভালো মানের হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, চিকিৎসা কেন্দ্র। নেই আশ্রয় কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ। নদীর পানি বৃদ্ধি ও নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভাঙ্গন। বিলীন হয় বসতবাড়ি ও ফসিল জমি। এ রয়েছে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি মাধ্যমিক ও ১টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় , কয়েকটি মসজিদ ও মক্তবখানা এবং মাদ্রাসা । নিত্য পণ্য, কৃষি পণ্য ও হাসপাতালে এবং মাগুরা জেলা যেতে পাড়ি দিয়ে হয় কাচা রাস্তা ও নদীপথ । সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কামারখালী ইউনিয়নের কামারখালী বাজার থেকে চর কসুন্দি পর্যন্ত ইট ও পাকা রাস্তা এবং ইটের রাস্তা থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার জুড়ে কাচা রাস্তা দিয়ে মধুমতি নদীর চর অঞ্চলে গ্রামের মানুষের রাস্তা দিয়ে চলাচল । ঝড়-বৃষ্টি ও নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করেই চলে চরবাসীর জীবন-জীবিকা। শিক্ষার জন্য চরের শিশুদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারনে বেশি পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তাই তো বাল্য বিয়ের প্রবণতা কয়েক গুণ বেশি। সম্প্রতি বিদ্যুৎ পৌঁছালেও চরবাসীর জীবনমান উন্নত হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারনে আইন শৃংখলা বাহিনীর চরম সমস্যা যার কারনে আইনের শাসন ব্যবস্থা চরম বিঘœ ঘটছে। এর জন্য দরকার পাকা রাস্তা ও গয়েশপুর ঘাটে ব্রীজ ও সালামতপুর ঘাটে ব্রীজ তাহলে স্থানীয় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, গর্ভবতী মেয়ের প্রসব ব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে নিতে যেতে রাস্তা ও গাড়ি না থাকায় নদীর ঘাটে যেতে অনেক সময় চলে যায়। পরে নৌকায় অপেক্ষারত অবস্থায় অন্তঃসত্ত¡া মেয়েরা মারা যায়। তাছাড়া রাস্তার অভাবে চরাঞ্চলের সুন্দর ছেলে-মেয়েদের ভালো কোন বিবাহ হয় না এবং সু- শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হয় বঞ্চিত।
কামারখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সভাপতি মরহুম সামসুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে স্থানীয় সমাজ সেবক ও বর্তমান সভাপতি শফিকুর রহমান বিশ্বাস পলাশ জানান, চরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত, এখানে রাস্তাঘাট নেই, নেই স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, আমাদেরকে, একটি পাকা রাস্তা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, আশ্রয়কেন্দ্র, ও বেড়িবাঁধ দিয়ে একটি ব্রিজ ও সালামতপুর খেওয়াঘাটে আরেকটি ব্রীজ স্থাপন করে আমাদের চলাচল সহজ করা। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা এসে শুধু আমাদের প্রতিশ্রæতি দিয়ে যায়। নদী পাড়ি দিয়ে তাদের ভোট দিয়ে আসি। তারপর আর কোনও কাজ করেন না তারা। তাই চরাঞ্চলের মানুষের বর্তমান প্রধান ও প্রানের দাবী পাকা রাস্তা, ব্রীজ, কমিউনিটি ক্লিনিক, বেড়িবাধ, আশ্রয়কেন্দ্র ।