চোখ রাখুন, কামারখালী বাজারে

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
কামারখালী বাজার দেখার লোক আছে , সমাধান করার কেহ নাই , কামারখালী বাজারের ড্রেন বন্ধ, রাস্তাঘাট কাদা, ল্যাট্রিন নাই, ড্রেনে নোংরা পানি, বাজারের উত্তরের ধানের গলির মার্কেটে ও মজিদ মার্কেট এবং ফেরীঘাটের রাস্তার পানি নিঃস্কাষনের কোন ড্রেন ব্যবস্থা নাই , যা পথচলাচলে বিঘ্ন সহ নানাবিধ সমস্যা
ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার অন্যতম প্রধান বাজার হচ্ছে কামারখালী বাজার। প্রতি বছরই ৩০-৩১ লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইজারা দেওয়া উক্ত বাজার। সপ্তাহের শুক্রবার ও সোমবার ২ দিন কামারখালী বাজারে হাঁট বসে। প্রতি হাঁটে মধুখালী উপজেলার ৫-৬টি ইউনিয়নের থেকে হাজার হাজার মানুষ বেচা-কেনা করতে আসে। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে খাজনা আদায় করে থাকে হাট ইজারা কমিটি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দিন যত যাচ্ছে কামারখালী বাজার তত নোংরা হচ্ছে। বর্তমানে বলা যায়, নোংরা কামারখালী বাজার। সরজমিনে গিয়ে দেখতে পাই, কামারখালী বাজারের সব অলি-গলিতে নোংরা জিনিসপত্র ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে এক শ্রেনির ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে দোকানের সামনে যে নালাগুলো রয়েছে,

তার উপর তক্তা বসিয়ে নালা দখল করে প্রায় সময় বেচা-কেনা করছে হকারের মতো দোকান দাররা। বর্তমানে পানি চলাচলের বেশির ভাগ নালা ময়লা ফেলে ভরাট করে দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। মাংসের দোকানে গিয়ে দেখতে পাই, প্রচুর নোংরা পরিবেশে তারা মাংস বিক্রি করছে এবং বাজারের সাইট ঘরের ভিতরে গরু জবাই করার পর মাংসের উচ্ছিষ্ট পদার্থ নালায় ফেলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। দোকানের সামনে হাঁটার রাস্তা দখল করে নিচ্ছে অনেক দোকানদার। কামারখালী বাজারের কিছু দোকানের সামনের নালায় প্রচুর ময়লা ফেলে বাজারের পরিবেশ নষ্ট করছে ভাসমান হকার সহ মুরগীর ফার্মের দোকানদাররা। এমনকি তাদের ব্যবহৃত সমস্ত দূষিত পানি দোকানের সামনে ফেলছে প্রতিদিন এবং খোলা জায়গায় হকাররা প্রশ্রাব করে বাজারকে ডাস্টবিনে পরিণত করছে। তাছাড়া বাজারে তেমন কোন ল্যাট্রিন নাই যা আছে পরিত্যক্ত ও নোংরা। আর মাছ ও গোশত বাজারের অবস্থা খুবই ঝুকিপূর্ণ যা মেরামত অতি জরুরী। বাজার বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আঃ ছালাম মন্ডল সাথে মোবাইলে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বাজারের পরিবেশ নোংরা হচ্ছে ঠিক, কিন্তু বাজারের নোংরা পরিবেশ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছেন বলে জানান। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বর্তমানে হকাররা নালা দখল করে পণ্যের পসরা সাজিয়ে রাখায় নালা পরিষ্কার করতে না পারায় পুরো গলি গন্ধে পরিবেশ ভারী হয়ে যাচ্ছে। যার দরুন মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বাজারের পূর্ব-পশ্চিম গলিতে গিয়ে দেখা গেল নোংরা পরিবেশের মহোৎসব। অর্থাৎ মাছ বাজার ও তরকারী এবং গোশত বাজার বর্তমানে একটি বিশাল ডাস্টবিন। এই বাজারে একটি খাবার হোটেল করেছে কাবিল মোল্যা তার হোটেলের সামনে দিয়ে সকল বাজারের নোংরা পানি যাচ্ছে দেখার ও প্রতিকার করার কেহ নাই । তাছাড়া কামারখালী বাজারের দক্ষিণ লেইনের পানি চলাচলের একমাত্র নালা দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন ড্রেসিং না করায় ভরাট হয়ে পানি চলাচলে বিঘœ ঘটছে। বাজারের উত্তরের ধানের গলির মার্কেটে ও মজিদ মার্কেট এবং ফেরীঘাটের রাস্তার পানি নিঃস্কাষনের কোন ড্রেন ব্যবস্থা নাই যেন বৃস্টি হলে পানি ও কাদা জমে ধানের চারা লাগানো মাঠ। এ ব্যবস্থা দেখে বাজারের এক দোকানদার বলেন, আজকের এ অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে কামারখালী বাজারের পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। অনেক দোকানদার বলেছেন, বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে হাঁটাচলা করা কষ্ট কর হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার আরও প্রধান কারন রেলের কাজ শুরু হয়েছে যার কারনে বাজার ছোট হয়ে গেছে অন্য গলিতে ব্যবসা বানিজ্যে করতে কস্ট হচ্ছে কারন কিছু গলি পরিস্কার ও খোলা দরকার ফলে যেদিকে যায়, সেই দিকে দুর্গন্ধ। তারা বলেন, দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা যদি রাস্তায় এভাবে রাখে মানুষ চলাচলে সমস্যা সহ স্বাস্থ্য কি হুমকির সম্মুখীন নয়? । কামারখালী বাজারের দক্ষিণ লেইনে নালার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে ক্রেতা বিক্রেতা সবাই। তাছাড়া বাজারের উত্তরের গলির ফেরীঘাট ঘাটের রাস্তা দিন দিন চরম খারাপে পরিনত হয়েছে ভারী যানবাহন চলাচল করার কারনে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাধারন ক্রেতা ও বিক্রেতা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দাবী জানান। দেখার লোক আছে , সমাধান করার কেহ নাই ,কামারখালী বাজারের ড্রেন বন্ধ হয়ে মসজিদ সড়কে নোংরা পানি, নামাজ পড়া ও পথচলাচলে বিঘœ কামারখালী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের রাস্তায় নোংরা পানি এবং পাশে ড্রেনে আবর্জনা ভরা, পরিস্কার নাই, ড্রেন বন্ধ । নোংরা পানিতে সয়লাব কামারখালী বাজারের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পথ ও চারপাশ। সবজি, আবর্জনা ও আশপাশের হোটেল , মাছ বাজার, গোশত বাজার, আবাসিক থেকে আসা পানিতে পয়ঃনিষ্কাশন পথগুলোর ড্রেন বন্ধ হয়ে আছে। অনেকের দোকানের সামনে ড্রেন বন্ধ ।






এসব দেখার লোক আছে , কিন্ত কিছু বলার এবং সমাধান করার কেহ নাই। তাই পথচারী ও ব্যবসায়ীদের এবং মুসল্লিদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ কিছু দেখেও দেখে না। কামারখালী বাজারের প্রায় সব জায়গায় খাবার ও সবজির উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকতে দেখা যায়। কেন্দ্রীয় মসজিদের গলিতে খাবারের দোকানগুলোর সামনের ও আশে পাশে রাস্তায় নালার উপচে পড়া ময়লার দুর্গন্ধে এ পথে চলা দায়। এ পরিবেশেই এখানে খাবারের দোকানগুলোতে খাবার তৈরি হচ্ছে এবং লোকজন তা খাচ্ছেও। বর্তমান বাজারের মধ্যে গলি দিয়ে রেলের কাজ শুরু হওয়ার কারনে বাজারের উত্তর ও দক্ষিন গলি সুচল করতে হবে জরুরীভাবে । তাই মসজিদে প্রবেশ একজন মুসলি¬ বলেন, ‘মসজিদের উত্তর ও পূর্ব দিকের ময়লাগুলো একইভাবে পড়ে আছে। এই জায়গায় মলও ভাসতে দেখা যায়। অনেক দিন ধরে দেখছি নোংরা পানি সরছে না। কী করব, কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও দেখে না।’ মসজিদের সামনে এই নোংরা পানির পরিবেশের কারণে সাধারন মানুষ ও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী , অফিস -আদালতের লোকজন এবং মুসল্লিদের আসা-যাওয়া সহ মসজিদে নামাজ পড়া চরম সমস্যা । আরও সমস্যা বাজারের দোকানদারেরা ও আবাসিকরা ময়লাগুলো ফেলেন বাজারের বিভিন্ন গলিতে । তাই বাজারের দোকানদারদের ও আবাসিকদের তাদের আর্বজনার ময়লা নিদিষ্ঠ স্থান রাখা ও দ্রæত বাজারের ড্রেন পরিস্কার, ল্যাট্রিন মেরামত তৈরী, টিউবয়েলস স্থাপন, বাজারের ময়লা-আর্বজনা নিরসন সহ বাজাারের সকল ড্রেন অলি-গলি পয়ঃ নিঃস্কাসনের জন্য দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকারের নিকট জোর দাবী জানান মসজিদে নামাজ পড়ার মুসল্লি,বাজার ব্যবসায়ী তথা বাজারের মধ্যে এবং আশে পাশে রাস্তা দিয়ে প্রবেশকারী সর্ব জনসাধারন।