কর্ম করে বাচতে চান প্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর

মধুখালী প্রতিনিধি ঃ
দেশের সচেতন নাগরিক ও জনদরদী সরকারের নিকট প্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর মোল্যা’র চাওয়া একটি ব্যাটারী চালিত ভ্যানগাড়ী
ব্যাটারি চালিত তিন চাকার ছোট একটি ভ্যান গাড়ী দিয়ে কর্ম করে বাচতে চান প্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর।
জন্মের পর থেকেই মা-বাবার দুশ্চিন্তা ছিল তাদের ছেলে বড় হয়ে কীভাবে চলবে। মা-বাবার আদরের সন্তান জাহাঙ্গীর মোল্যা যখন বুঝতে শেখেন, তখন তাকে কাঠের নকশার কাজ শেখান। সেই থেকে শুরু কর্মজীবন। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মছলন্দপুর কলেজপাড়া গ্রামের ফজলু মোল্যার ছেলে জাহাঙ্গীর মোল্যা। পরিবারে আর্থিক দৈন্যতার কারনে তিনি কামারখালী বাজারে বিভিন্ন ঘরে কাঠের নকশার কাজ করতেন । বর্তমান কম্পিউটারের যগ হওয়ায় হাতের কাজ নাই বললেই চলে। জাহাঙ্গীর মোল্যা লেখাপড়া করেছেন ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত। তবে প্রতিবন্ধী হলেও হয়ে উঠেছেন আত্মনির্ভরশীল। কখনো ভিক্ষাবৃত্তি বা অন্যের কাছে হাত পাতেননি তিনি।
বয়স ৩০ কোঠায়। এখনও অবিবাহিত। দুটি পা অচল থাকায় চলাচল করতে হয় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ছোট একটি ভ্যানগাড়ী অতি জরুরী । এই বয়সেও অন্যের দুয়ারে ধরনা না দিয়ে রিকশাযোগে স্থানীয় সহ আশপাশের বাজারে কম্পিউটারের মাধ্যমে নকশার কাজ শিখে নিজে কাজ করে দিনাতিপাত করতে চান । সরেজমিন দেখা যায়, পরনে হালকা হাফ শার্ট ও শট প্যান্ট পরিহিত। একটি হাত দিয়ে ঠেলা গাড়ী নিয়ে চলাফেরা করে জাহাঙ্গীর । প্রতিবন্ধী হওয়ার পরেও কাঠের নকশা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন । বর্তমান বন্ধ । বেকার হয়ে বাড়ীতে বসে থাকেন আর কাজের সন্ধানে কামারখালী বাজারে আসেন কিন্তু কাজ পাই না। কারন হাতে ঠেলে গাড়ী নিয়ে অনেক দুরে যেতে পারেন না। বর্তমানে তিনি সরকারিভাবে প্রতিবন্ধী কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে সাত শ টাকা পান। এ ছাড়া অন্য কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পান না তিনি। তাই আশা তিনি কারও কাছে হাত পেতে বাচঁতে চাইনা কর্ম করে খেতে চাই তাই একটি ব্যাটারী চালিত ভ্যানগাড়ীর জন্য সাহায্যের দাবী করেন। প্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর মোল্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওর সহপাটি স্থানীয়রা বলেন, ছোটবেলা থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর মোল্যা। আমাদের সঙ্গে লেখাপড়াও করেছে। প্রতিবন্ধী হলেও বসে না থেকে নকশা’র কাজ শিখেছে। ছোট থেকে সে এমন, বসে বসে খাবে না আর কারও কাছে হাতও পাতবে না। নিজে কর্ম করে জীবিকা নিবারণ করার মনোবল ও মনবাসনা ছোট থেকেই ছিল জাহাঙ্গীর ।
কিন্তু কম্পিউটার এসে সবকিছু হারিয়ে এখন বাড়ীতে বসে আছে। তার মধ্যে কাজের মনোভাব রয়েছে এবং মানুষ হিসেবে অনেক ভালো। তিনি বর্তমান তিনি সিদ্বান্ত নিয়েছেন কম্পিউটারে নকশার কাজ শিখে আবারও নকশার কাজ করে প্রতিষ্টিত হবেন এটাই তার একমাত্র আশা। তাই সরকারের কাছে সহায় সম্বলহীন জাহাঙ্গীরের কর্মে জীবন গড়ার অঙ্গিকার হিসেবে একটি ব্যাটারী চালিত ভ্যানগাড়ী করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এলাকাবাসী সরকারের কাছে জাহাঙ্গীরের জন্য একটি ব্যাটারী চালিত ভ্যান গাড়ীর দাবি জানান একই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দরা বলেন, আমাদের জানামতে তিনি খুবই ভালো মানুষ। তিনি কর্ম করে খাচ্ছে এবং কারও কাছে হাত পাততে আমি দেখিনি । সরকারের কাছে দাবি জানাই, ওনাকে যেন কোন সহৃদয়বান দানশীল মানুষ অথবা সরকারিভাবে ব্যাটারী চালিত ভ্যানগাড়ী দেয় যাতে তিনি বাড়ী থেকে বাজারে এসে অপরের কর্ম করে খেতে পারেন। জন্মের পর থেকে জীবন-সংসারে কীভাবে সংগ্রাম করে টিকে আছেন? জানতে চাইলে প্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর জানান,জন্মের পর থেকেই আমার এই অবস্থা।
সামান্য লেখাপড়া করছি। প্রতিবন্ধী হওয়ায় মা-বাবার বাড়তি চিন্তাও ছিল আমাকে নিয়ে। মা-বাবার চিন্তা ছিল বড় হলে কেমনে চলব আমি। তাই আমাকে নকশার কাজ শেখান। তিনি বলেন, নকশার কাজ শেখার পরে দোকানে দোকানে নকশার কাজ করতাম । বেশ ভালোই চলছিল। বাজারে নকশার জন্য কম্পিউটার এসে হাতে নকশার কাজ বন্ধ এখন চলার মতো কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না। তবে সিদ্বান্ত নিয়েছি কম্পিউটারে নকশার কাজ শিখবো। সরকারে কাছে কোনো চাওয়া-পাওয়া আছে কি না, জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর মোল্যা বলেন, অনেক সময় পত্রপত্রিকায় দেখি আর টেলিভিশনে শুনি, সরকার অসহায় মানুষকে বিনা মূল্যে ঘর-বাড়ি, জায়গা সহ আরো অনেক কিছু দেয়। সরকারের তরফ থেকে যদি একটি ব্যাটারী চালিত তিন চাকার একটি ভ্যান গাড়ী সহ কিছু অনুদান পাইতাম। আল্লাহপাক কত দিন বাঁচায়ে রাখব, তা তো জানি না। তয় জীবনে বাকি দিনগুলি একটু আরাম-আয়েশে থাকতে পারতাম মনে একটা ভাব নিয়া। আমার খুব ভালো লাগত বলে জানান জীবন যুদ্ধে হার না মানা প্রতিবন্ধী জাহাঙ্গীর মোল্যা ।