জমির কাগজ নাই, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের মরহুম রফিকুল ইসলাম খাঁন (ঠান্ডা) এর ছেলে ফাইম খাঁন, দীজেন্দ্রনাথ সাহা’র ছেলে মুরারীমোহন ও মনিমোহন সাহার গোডাউনের মধ্যে ৬শতাংশ জমি পাবে বলে ও কিছু লোকের নামে বিভিন্ন অভিযোগ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে সিদ্বান্ত হয় উভয়ের কাগজপত্র দেখে জমি মাপার সিদ্বান্ত হয়। মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে কামারখালী সুধী বান্ধব ক্লাবে কাগজ পত্র দেখা হয়। কাগজ দেখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম আরা’র নির্দেশে মধুখালী উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ খলিলুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান বাজার বণিক সমিতির সভাপতি কাজী মতিউল ইসলাম মুরাদ, সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আঃ সালাম মন্ডল, আড়পাড়া ইউনিয়নের সমাজসেবক ফজলুল হক মিয়া, মৃধা এহতেশাম হায়দার, বাজার বণিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি বাদশা মন্ডল, সহ-সভাপতি বিনয় সাহা, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহ-সাধারন সম্পাদক আরমান হোসেন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদ মন্ডল, ইদ্রিস আলী পান্নু, আবু তালেব, কামারখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি সাহাদত হোসেন সাবু, কামারখালী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, সমাজ সেবক জাফর আলী মোল্যা, শেখ নফর উদ্দীন ইরান, শান্ত, আকেব খাঁন, আনিচুর রহমান, আতিকুর রহমান মোল্যা, পিটার মোল্যা, ইমরান মন্ডল, ইউপি সদস্য সাজেদুল ইসলাম দুলু, ইউ.পি. সদস্য আশরাফ মোল্যা। এ ছাড়া মিজানুর রহমান বিশ্বাস বাবলু, হবিবার বিশ্বাস, আরিফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সহ প্রমুখ। মাপের কাজে নিয়োজিত ছিলেন আমিন আজাদ , হুমাউন, রেজাউল এবং ডাবলু। আইন শৃংখলা বাহিনীতে নিয়োজিত ছিলেন কামারখালী ইউনিয়নের বিট অফিসার মধুখালী থানার এস.আই. সান্টু দেব, এস.আই. অজয় বালা সহ পুলিশ ফোর্স ও গ্রামপুলিশ। পরে দেখা যায় যে, ফাইম খাঁন তার অভিযোগের সাপেক্ষে কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারে নাই। তাছাড়া মাপের আগেই তিনি দুটি মামলা করেছেন জমি পাবার দাবী নিয়ে বলে জানা যায়।
মামলাগুলো কোর্টে চলমান। এ ভাবে কামারখালী বাজারে বিভিন্ন লোকের নামে একের পর এক মামলা করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ শুনা যায়। এ ব্যপারে প্রধান অভিযোগের জমির ও গোডাউনের মালিক মুরারীমোহন সাহা বলেন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ফাইম খাঁন লোকবল নিয়ে আমাদেরকে গালিগালাজ ও উত্ত্যক্ত এবং আমাদের লোকের হয়রানী করছেন। তিনি আরও বলেন আমাদের গোডাউনের মধ্যে যদি ওর নামে দলিল ও বিএস পরচা মূলে জমি থাকে আমরা অবশ্যই দিয়ে দিবো। আমরা এর সুরাহা চাই। সব অভিযোগ দেখে কামারখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহিদুর রহমান বিশ্বাস বাবু এবং আড়পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুজাম্মান বাবু বলেন, তাদের নামে একাধিক মামলা করে শুধু হয়রানী করা হচ্ছে। তবে কোনো সুরাহা হয়নি। বরং তাদের ওপর হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দায়েরে করছেন। মধুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ফাইম খাঁন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । তার আগে মুরারী মোহন সাহা জমি ভোগ দখলে কতটুকু আছে একটা মাপ দেওয়া হোক । মাপে দেখা যায় বর্তমান ৪৬৪৬ নং বি.এস দাগে ও ১৪০২ খতিয়ানে জমি আছে মোট ২১.৩৫ শতাংশ এর মধ্যে মুরারী মোহন সাহা’র এস.এ খতিয়ানে ২০ শতাংশ বি.এস. খতিয়ানে ১৯শতাংশ আর দখলে আছে ২০.৯৮ শতাংশ। আর সরকারী ১/১ খতিয়ানে ক্লাবে ১ শতাংশ এবং সরকারের আছে ০.৩৬ পয়েন্ট মিলে ২১.৩৪ শতাংশ অর্থ্যাৎ এই দাগে বি.এস খতিয়ানে ফাইমের নামে কোন জমি নাই এবং বি.এস খতিয়ানের কোন কাগজ নাই। তবে ফাইম একটি চায়ের দোকান, একটি মুদি দোকান এবং ডাক্তারী ছোট একটি দ্বিতল বিশিষ্ট ঘর তালা মেরে জোরপূর্বক লোকবল নিয়ে দখল করে ভাড়া খাচ্ছে যাহা বিগত বছরগুলোতে মুরারীমোহন সাহার ভোগ দখলে ছিল বলে জানা যায়। বর্তমান ফাইম বিগত দিনে থানায় অভিযোগ, দেওয়ানী এবং রাজস্ব(রেভিঃ) মামলা চলমান আছে। মামলা নং-১৯/২৩, দেওয়ানী মামলা নং- ১০৯./২৩ । সবশেষে কোর্টের উপর আস্থা রেখে সবাইকে শান্ত থেকে শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনার আশা রেখে মাপের কাজ শেষ করেন। এখানে সুস্পষ্ঠ সার্ভেয়ার খলিলুর রহমান বলেন যেহেতু কোর্টে মামলা চলমান সেহেতু কোর্টের রায় না হওয়া পর্যন্ত সবাই শান্তিতে থাকবেন বলে আশা রাখি।