৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি রোজঃ শনিবার
আড়পাড়া

গাছ কেটে জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ

মধুখালী প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের গড়িয়াদহ গ্রামে গভীর রাতে রমেন্দ্রনাথ মন্ডলের পরিবারের জমিতে মেহগনি গাছ কেটে জমি দখল করে ওই জমির ওপর দিয়ে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার (২৬শে মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের গড়িয়াদহ পূর্ব পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পরিবার ওই জমি দখল ও গাছ কাটার নেতৃত্বে রয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। জানা যায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও থানা এবং মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিকুর রহমান চৌধুরী’র কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে একই গ্রামের বিষ্ণুপদ বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে তাঁরা জমি দখল ও জীবননাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন।

গড়িয়াদহ বাইপাস সড়কের থেকে মাঠে যাওয়া ও আসার জন্য একটি রাস্তাা তৈরী করে তার মিলের সমস্ত কাজ কর্ম করবে এই রাস্তা দিয়ে এমন একটি ফায়দা লুটার পায়তারা করছে। আমরা তো এই দেশের মানুষ। আমাদের ওপর কেন এই অত্যাচার ও অবিচার। আড়পাড়া ইউনিয়নের গড়িয়াদহ গ্রামের পূর্ব পাড়া রমেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, ‘ আমি একটি বেসরকারী চাকুরী করি । আমি বাড়ী থাকিনা । আমার পরিবার ও ভাবী ও ছোট ছোট ভাস্তেরা বাড়ী থাকে ওদের ভয়ে আমার পরিবার আতংকে আছে । তাছাড়া আমরা গড়িয়াদহ মৌজার বি.আর.এস . ২নং দাগে ১৮শতাংশ এর মধ্যে ৬শতাংশ জমি বিক্রি করার পর ১২ শতাংশ জামির মালিক। এ জমি আমরা বংশপরম্পরায় শরীকরা ভোগ করে আসছি এবং মেহগনি এবং অন্যান্য দুটি চারটি সহ মোট ৫৯টি গাছ লাগিয়েছি এর মধ্যে বিষ্ণুপদ বিশ্বাস ক্ষমতার দাপটে নিজের জমির গাছ দাবী করে ৮টি মেহগনি গাছ অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছে। তারা রাতের আধারে কেটে নিয়ে গেছে । তাই একই এলাকার বিষ্ণুপদ বিশ্বাস টাকার মালিক হয়ে এলাকায় ক্ষমতার দাপট কায়েম করছে। তাছাড়া নিরীহ পরিবারের প্রতি বহিরাগতদের দিয়ে ভয় ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। রমেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, ‘আমরা ভয়ে প্রতিবাদ না করে ৯৯৯ (জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর) নম্বরে কল দিই।

পরে মধুখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের গাছ কাটতে বাধা দেয়। পুলিশ চলে যাওয়ার পর পুনরায় তাঁরা গাছ কাটা শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, ‘সকাল থেকে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের পরিবারের ওপর যে কোনো সময় হামলা করতে পারে। আমরা সংখ্যালঘু পরিবারগুলো আরেক হিন্দু পরিবারের জন্য চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’ এ ব্যাপারে আমি ইউনিয়নে ও থানায় এবং উপজেলায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। যা অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান সহ মেপে দেয় যাহা আমার মনমত হয় নাই। আমার সীমানা আরও পূর্ব দিকে সড়বে। এ বিষয়ে আড়পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন আমি অভিযোগ পেয়ে দুই পক্ষ ডেকে জমি মেপে দিয়েছি। তাই মন্ডল বাড়ীর গৃহবধূ লক্ষীরানী বলেন, ‘রাত ১১.৩০টার দিকে শোর গোলে ঘুম ভেঙ্গে যায়। বাড়ির চারপাশে প্রচুর আলো দেখতে পাই। জমির ওপর থেকে মেহগনি ৮ টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলতে দেখি। বাড়ির পুরুষেরা ঘর থেকে বের হতে চাইলে তাদের আটকে রাখি। ওই সময় বিষ্ণুপদ বিশ্বাস তার লোকজন খুব খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করছিল। এতে আমরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ি। পুলিশ আসার পর একটু সাহস পেয়েছিলাম। আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি।’ লক্ষীরানী বলেন, ‘আমরা তো এই দেশের মানুষ। আমরাতো গরীব মানুষ। আমাদের শরীকের ১২শতাংশ জমি আছে । এই জমি ছেড়ে আমরা কোথায় যাবো। আমাদের ওপর কেন এই অত্যাচার ও অবিচার? আমরা কোথায় বিচার পাব?’ জানতে চাইলে মধুখালী থানা পুলিশ উপ-পরিদর্শক উজ্জ্বল বলেন,

‘আমরা রাতে জানতে পেরেছি অবৈধভাবে অন্যের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ ও গাছ কাটছে ওই এলাকার কতিপয় ব্যক্তি। সেখানে গিয়ে তাঁদের কাজ ও গাছ কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দিই। এই বিষয়ে আড়পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আঃ রউফ মৃধা বলেন বিষ্ণুপদ বিশ্বাস ভালো মানুষ না। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষ্ণুপদ বলেন, ‘আমাদের রাস্তার প্রয়োজন, তাই সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি জনগনের স্বার্থে রাস্তা বের করবোই। আমাকে কেহ ঠেকাতে পারবে না । ভূক্তভোগী পরিবার ও আশেপাশে বসবাসকারী নিরীহ মানুষের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট জোরালো দাবী তিনি যাতে পূনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করে দেখে বিষ্ণুপদ বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরন সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক ।